বাংলাদেশের কৃষিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় ‘সেন্টার-পিভট’ সেচ প্রযুক্তি চালু করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল জোনের আওতাধীন পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ও নাটোরের ভবানীপুর আখ খামারে এই স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ প্রযুক্তি দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মনে করছে বিএডিসি।
‘সেন্টার-পিভট’ সেচ ব্যবস্থায়, চাকাযুক্ত দীর্ঘ পাইপলাইনে যুক্ত স্প্রিংকলার বা ছিটিয়ে দেওয়া যন্ত্রের মাধ্যমে ফসলের ওপর বৃষ্টির মতো পানি পড়ে। প্রথাগত পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে সেচ প্রদানে পানির অপচয় হয় না। সুনির্দিষ্ট স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়া যায়।
বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা ও নাটোরের দুটি কৃষি খামারে স্বয়ংক্রিয় এই সেচ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।’
অস্ট্রিয়ার ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্পের অধীনে পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি খামারে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পুরো নির্মাণ কাজ শেষে পরীক্ষামূলক ধাপের পর জানুয়ারির শেষেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে বলে জানান বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী।
প্রকল্পটি সফল হলে দেশের অন্যান্য কৃষি অঞ্চলে এ ধরনের ছোট ও বড় প্লান্ট স্থাপন করে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা যাবে বলেও জানান তিনি।
বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আখ চাষে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। নাটোর বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বর্তমানে পর্যাপ্ত সেচের অভাবে প্রতি একরে ১৫-১৭ মেট্রিক টন আখ উৎপাদিত হয়। এই আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ব্যবহারে উৎপাদন ২৭-৩০ মেট্রিক টনে পৌঁছাবে বলে আশা করছি।’
মুলাডুলি আখ খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘খামারে ১ হাজার ১০১ একর জমি রয়েছে। ৯৪০ একর জমিতে আখ চাষ হয়। এর মধ্যে আনুমানিক ১৫০ একর জমিতে সেচ দিতে পারবে সাপ্লাই পিভট প্রযুক্তি।’
দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে খামার দুটিতে।
উত্তরবঙ্গ চিনি কলের মহাব্যবস্থাপক (খামার) মো. বাকি বিল্লাহ জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সময়, শ্রম ও অর্থ—তিনটিরই সাশ্রয় হবে। যেখানে প্রথাগত পদ্ধতিতে ১০০ একর জমিতে সেচ দিতে অনেক শ্রমিক ও ১৫-২০ দিন লেগে যেত, সেখানে এখন ৫-৭ দিনের মধ্যে আরও বেশি এলাকায় সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু চিনিকলের জন্য নয়, এ অঞ্চলের কৃষির জন্যও বড় অর্জন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ দিয়ে আখের উৎপাদন বাড়িয়ে চিনিকলগুলোকে যেমন আরও বেশিদিন সচল রাখা সম্ভব, পাশাপাশি একই জমিতে একাধিক মৌসুমি ফসল ফলানোও সম্ভব।’
পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে বিভিন্ন খামার ও বেসরকারি কৃষি উদ্যোগেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। এতে একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো, চাষের সময় কমানো ও পানির সাশ্রয় সম্ভব হবে। ফলে খামারের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

