ইরানের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মী সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

এতে বলা হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  

তিন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন কর্মীকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যেতে বলা হয়েছে।

আল উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা সদস্য রয়েছে।

একইসঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ফরোয়ার্ড সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, ‘অবস্থানগত পরিবর্তন হলেও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ নয়।’

এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

এক কূটনীতিক বলেন, ‘পরিকল্পিত সংঘাতের চেয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি এখন বেশি।’

দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, গত বছরের মতো বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি।

গত বছর জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে ওই অভিযান চালানোর অন্তত এক সপ্তাহ আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

পরবর্তীতে কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এ পদক্ষেপকে অনেকটা গত বছরের ঘটনার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।

সম্প্রতি ইরানের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বারবার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।

Related Articles

Latest Posts