বাংলাদেশ ক্রিকেটে শামীম হোসেনের মতো খেলোয়াড় বেশ বিরল। টি-টোয়েন্টিতে তিনি ব্যাটিং করেন ছয় নম্বর পজিশনে—যে পজিশনটি আমাদের দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সবসময়ই বড় এক চ্যালেঞ্জের জায়গা। শামীম আসার আগে দীর্ঘদিন ধরে এই পজিশনে থিতু হতে পারছিলেন না কেউই।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে মিরপুর একাডেমি মাঠে শামীমকে দীর্ঘক্ষণ থ্রো-ডাউন অনুশীলন করতে দেখা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের পজিশনের চাহিদা অনুযায়ী শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিং না করে তিনি মনোযোগ দিচ্ছিলেন সোজা ব্যাটে খেলার ওপর। শামীম জানান, দীর্ঘ বিরতির পর কেবল প্রস্তুতির শুরু বলেই তিনি এমনটা করছেন না।
শামীম বলেন, ‘ম্যাচে যখন ব্যাটিং করতে নামব, তখনো এভাবেই (সোজা ব্যাটে) শুরু করা উচিত। কেবল শেষ দুই-তিন ওভারের জন্য আমি সাইড শটগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। তাই প্রস্তুতিটাও সেভাবে নিচ্ছি।’
বিষয়টি তার স্বাভাবিক মারকুটে ধাঁচের সঙ্গে মেলে না—এমন মন্তব্যের জবাবে হেসে তিনি বলেন, ‘আমি অধিকাংশ সময়ই এটা চেষ্টা করি। কারণ কখনো দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে আপনাকে দেখেশুনে ধীরস্থির খেলতে হয়… এই রুটিনটা আমার অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছে।’
মানিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া কতটা কঠিন? শামীমের উত্তর, ‘মন থেকে চাইলে সব সহজ, তবে আমার জন্য কাজটা কিছুটা কঠিন। আসলে যারা শুধুই মারার জন্য নামেন, তাদের জন্য এটি আরও কঠিন। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ যত বেশি থাকবে, আমার পারফরম্যান্সও তত ভালো হবে।’
গত দুই বছরে টাইগারদের খেলা ২৯টি টি-টোয়েন্টিতেই ছিলেন শামীম। গত পাঁচ বছরে ছয় নম্বর পজিশনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১৮ বার) ব্যাটিং করেছেন তিনি। এমনকি অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের (১৭ বার) চেয়েও এই পজিশনে তার উপস্থিতি এখন বেশি। এই পজিশনে নিয়মিত খেলা জাকের আলী, আফিফ হোসেন কিংবা নুরুল হাসান সোহানদের মধ্যে শামীমের স্ট্রাইক-রেটই (১৩৫.৪৪) সবচেয়ে বেশি।
শামীমের কাছে দলের চাহিদা থাকে ‘তাৎক্ষণিক প্রভাব’ বা ইমপ্যাক্ট তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৩ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংসই তার বড় প্রমাণ। শামীম জানান, দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং দেখেই নিজের ব্যাটিং স্ট্যান্স কিছুটা সোজা করার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে উইকেটের পেছনে শট খেলার সময় ঠিকই নিজের কৌশলে বদল আনেন।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের এখানে ছয় নম্বরে খেলার মতো ক্রিকেটার খুব বেশি নেই। এই পজিশনই জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়। অন্য দেশের মতো এখানেও ১৩০-১৪০ স্ট্রাইক-রেটে ব্যাটিং করা প্রয়োজন। শামীম যদি এভাবে নিয়মিত অবদান রাখতে পারেন, তবে তা দলের জন্য বড় পাওয়া হবে।’
সাবেক এই অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘শামীমের সামর্থ্য আছে সোজা ব্যাটে খেলারও। ওয়ানডে ক্রিকেটে কখনো হাতে সময় নিয়ে ভিন্নভাবে ব্যাটিং করার প্রয়োজন পড়লে তিনি সেটিও পারবেন। এটি পুরোপুরি মানসিকতার ব্যাপার।’
আপাতত শামীমের খেলায় নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসনের এক অদ্ভুত মিশেল দেখা যাচ্ছে। ক্রিজে সময় কম থাকলেও বড় প্রভাব ফেলার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

