যুক্তরাষ্ট্রে স্মারক পাসপোর্টে থাকছে ট্রাম্পের ছবি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত বিশেষ ও সীমিত সংস্করণের পাসপোর্ট ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে।

ফক্স নিউজ এ নিয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই বিশেষ পাসপোর্টগুলো ছাড়া হবে।

প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নতুন নকশার এই পাসপোর্টগুলো যেকোনো মার্কিন নাগরিক সংগ্রহ করতে পারবেন। কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আবেদন সাপেক্ষে স্টক থাকা পর্যন্ত এই পাসপোর্টগুলো বিতরণ করা হবে।

তবে এই বিশেষ পাসপোর্টগুলো পেতে হলে আবেদনকারীকে সরাসরি ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে যোগাযোগ করতে হবে, কারণ এটি অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা পাসপোর্টের একটি খসড়া নকশায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের ছবির চারপাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী এবং মার্কিন পতাকা রয়েছে। এ ছাড়া পাসপোর্টে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরটি সোনালি রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টে দেশটির ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেমন—চাঁদে অবতরণের দৃশ্য এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জাতীয় প্রতীকের ছবি আছে।

তবে নাগরিকরা চাইলে এই বিশেষ সংস্করণের বদলে সাধারণ পাসপোর্ট বেছে নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

চালু হতে যাওয়া স্মারক পাসপোর্টটি মূলত সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সরকারি ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম ও প্রতিকৃতি যুক্ত করার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে, তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

সম্প্রতি ইউএস মিন্ট ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি বিশেষ স্বর্ণমুদ্রা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

পাশাপাশি, তিনি হতে যাচ্ছেন প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার স্বাক্ষর দেশটির ব্যাংক নোটে মুদ্রিত হতে যাচ্ছে।

এ ছাড়া, কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ পারফর্মিং আর্টস সেন্টারটির নাম বদলে ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির পরিবারের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এপ্রিলের শুরুতে হোয়াইট হাউস সোনালি কারুকাজ করা আর্ক দ্য ট্রাম্প নামে একটি বিশালাকার বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৫০ ফুট (৭৬ মিটার) উঁচু এই স্থাপনা নির্মাণের জন্য একটি ফেডারেল প্যানেল প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

তবে সাধারণ জনগণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এ নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট স্বয়ং হোয়াইট হাউসের মূল কাঠামোতেও স্থায়ী পরিবর্তন আনছেন। একটি বিশাল বলরুম তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ভবনের পূর্ব অংশ বা ইস্ট উইং ভেঙে ফেলেছেন।

এই ঘটনায় হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন।

তাদের অভিযোগ, ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের কাছে চূড়ান্ত নকশা জমা দেওয়ার আগেই এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। 

Related Articles

Latest Posts