রানাকে সামলানোর উপায় খুঁজছে অস্ট্রেলিয়া

যখন গতিই ক্রিকেটের আসল অস্ত্র, তখন নাহিদ রানাই যেন এর সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ২৩ বছর বয়সী বাংলাদেশের এই গতি তারকা উইকেটের চারপাশে রীতিমতো আগুন ঝরিয়ে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ। তবে এদিন রানার মধ্যে চিরচেনা শান্ত ভাবের বদলে দেখা গেছে অন্য এক রূপ। আসলে ম্যাচের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিশ তার বলে দুই চার মারার পরই যেন তেতে ওঠেন তিনি।

সেই ক্ষোভকে শক্তিতে রূপান্তর করে মঙ্গলবার একের পর এক বিধ্বংসী স্পেল করেন রানা। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার উপহার দিয়ে ৪১ রানে নেন ৪ উইকেট। তার গতির ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা থিতু হওয়ারই সুযোগ পাননি। ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানে হারে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের হয়ে ৪৭ রান করা উইকেটকিপার-ব্যাটার আলেক্স কেয়ারি স্বীকার করেছেন, রানার গতি সম্পর্কে ধারণা থাকলেও মাঠে নেমে তার মুখোমুখি হওয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।

মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কেয়ারি বলেন, ‘হ্যাঁ, সে সত্যিই দারুণ বল করেছে। আমরা সবাই তার গতি সম্পর্কে জানতাম, তবে মাঠে নিজে খেলার আগে সেটি বোঝা যায় না। সে বেশ লম্বা একজন অ্যাথলেট, গতি ও সুইংয়ের পাশাপাশি ভালো বাউন্সও পায়। সে যে খুব ভালো বল করেছে, তা মানতেই হবে। আগামী বৃহস্পতিবার ও রবিবার এই মাঠেই পরের দুটি ওয়ানডে। আমাদের সামনে সুযোগ থাকছে তার বিপক্ষে খেলার। আশা করি, সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোয় তাকে আমরা সামলে নিতে পারব।’

প্রথম ম্যাচে দলের বিপর্যয়ে ৪৭ করা কেয়ারি আশা করছেন পরের ম্যাচেই তারা ঘুরে দাঁড়াবেন, ‘আমাদের ব্যাটাররা তাদের পেস আক্রমণের মুখোমুখি হলো এই প্রথম। এমন একটা উইকেটে, যেখানে গতি ও বাউন্স পাওয়া যায়, সেখানে অতিরিক্ত গতি কাজে লাগিয়ে সে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছে। আমাদের ব্যাটাররা এখন তাদের পেসার ও স্পিনারদের দেখে নিয়েছে। আশা করি, পরের ম্যাচগুলোয় আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

লড়াইয়ের মাঠে রানার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কেয়ারি বলেন, তারা জানতেন কী হতে চলেছে, কিন্তু এই গতি তারকাকে কোনোভাবেই আটকে রাখা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের কোনো বোলারের কাছ থেকে এমন আগ্রাসন তারা আশা করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে অজি উইকেটকিপার বলেন, ‘আমরা তার আগের ম্যাচের ভিডিও আর আক্রমণাত্মক বোলিং দেখেছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দ্বিতীয় স্পেলে সে যখন ফিরে আসে, আমরা জানতাম সে কী করতে পারে। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই তাকে থামিয়ে রাখতে পারিনি। তবে ফাস্ট বোলাররা মাঠে এসে এমন আক্রমণ করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। আমি আগেও বলেছি, আশা করি পরের ম্যাচগুলোয় আমরা পরিকল্পনা বদলে তাকে আর চড়াও হতে দেব না।’

নিজের আগ্রাসী স্পেলে অজি ব্যাটারদের একের পর এক বাউন্সারে বোকা বানিয়েছেন রানা। জশ ইংলিশকে আউট করার পর তার বুনো উদযাপন ও বিদায় জানানোর ভঙ্গি ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েক গুণ, যা পুরো সিরিজের সুরও বেঁধে দিয়েছে। মাঠে এমন স্লেজিং বা কথার লড়াইকে খেলারই অংশ মনে করেন কেয়ারি। তবে এই ঘটনা নিয়ে অধিনায়কের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি বলে জানান তিনি।

কেয়ারি বলেন, ‘কথার লড়াই? না, জশের সঙ্গে এই নিয়ে আমার কথা হয়নি। তবে আমার মনে হয় ক্রিকেটে আমরা এমনই দেখতে চাই—একটু উত্তেজনা, একটু রোমাঞ্চ। অবশ্যই সেটা যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়। মাঠে দুজন ক্রিকেটার নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করছিল, এটাই আসল কথা। তবে তাদের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা আমার জানা নেই।’

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Latest Posts