প্রস্তর যুগ থেকে চলছে ‘ত্যাগ-উৎসর্গ’

তুরস্কের পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলের ইলাজিঘ শহর। প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেই শহরে খুঁজে পেয়েছেন প্রায় ৬ হাজার বছর পুরোনো এক মন্দির। শুধু তাই নয়—সেই মন্দিরে পাওয়া গেছে একটি ‘রক্ত প্রবাহের নালা’।

সেখানে আরও পাওয়া গেছে মানুষ ও পশুর হাড়গোড়। বেদীর পাথরে ছুরি দাগ।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল।

সে বছর ১৫ জুলাই তুরস্কের দৈনিক সাবাহ জানিয়েছিল—ধারণা করা হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে সেই মন্দিরে ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে মানুষ ও পশু উৎসর্গ করা হতো।

তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা আহমেদ দেমারদাঘ তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু আজেন্সিকে বলেন, ‘মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে মানুষ ও পশু উৎসর্গের নমুনা পাওয়া গেছে। রক্ত প্রবাহের নালা ও একটি গভীর গর্তও সেখানে আছে।’

আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর আগে মানুষের জীবনধারা, কর্মপন্থা বা তাদের ধর্মবিশ্বাস কেমন ছিল সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা এই আবিষ্কার থেকে পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

ব্রিটানিকা বলছে—সর্বশক্তিমান প্রভু বা মৃত মানুষের উদ্দেশে কোনোকিছু ‘উৎসর্গ’ করার চল মোটামুটিভাবে শুরু হয় মধ্য পুরাতন প্রস্তর যুগ থেকে। বৈজ্ঞানিক হিসাবে, এই যুগ শুরু হয়েছিল এখন থেকে ৩ লাখ বছর আগে এবং চলেছিল এখন থেকে ৫০ হাজার বছর আগ পর্যন্ত।

খুব সম্ভব একটি পশু শিকারের পর শিকারিরা সেই পশুর অংশবিশেষ অথবা হাড় উৎসর্গ করতো। এমনকি, পুরো পশু উৎসর্গ করার প্রচলনও ছিল।

গবেষকরা বলছেন—মানুষ যখন শিকার ছেড়ে চাষাবাদে মনোযোগ দিলো তখন তাদের প্রাচীন যুগের ‘উৎসর্গের’ চেতনা একটি রীতিতে পরিণত হয়। কিছু নির্দিষ্ট প্রাণী ও তাদের দেহাংশ উৎসর্গের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণত উৎসব, বা উৎসবের শুভ-সূচনা, মৃতের আত্মার শান্তি কামনা, জমির উর্বরতা রক্ষা, বিশেষ করে, কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল উৎপাদন ও ভালো ফসলের আশায় গৃহপালিত পশু সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হতো।

দক্ষিণ ইরাকের প্রাচীন উর শহরের রাজকীয় সমাধিস্থল ও চীনের শাং রাজবংশের গণকবরে মৃত সমাজপতির সঙ্গে আরও অনেক মানুষ ও পশুর সমাহিত দেহাবশেষ দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন—সেগুলোও এক ধরনের ‘উৎসর্গ’; তবে মূলত মৃত ব্যক্তির পরজীবনে সহায়তার জন্য সে যুগে মানুষ ও পশু ‘উৎসর্গ’ করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়াও, প্রস্তর যুগের পর শুরু হওয়া ‘ব্রোঞ্জ যুগ’ বা খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার ৩০০ সাল থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১ হাজার ২০০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে কুয়া বা জলাশয়ে অনেক অস্ত্র ও অলঙ্কার দেখে গবেষকরা ধারণা করছেন—সেসময় দামি বস্তুও ‘উৎসর্গ’ করা হতো।

আবার এমনও হতে পারে যে—যুদ্ধ জয়ের পর লুট করা অস্ত্র, অলঙ্কার ও অন্যান্য পণ্য বা দ্রব্যসামগ্রীও ‘উৎসর্গ’ করা হতো।

ব্রোঞ্জ যুগের পর শুরু হওয়া ‘লৌহ যুগেও’ তথা, খ্রিষ্টপূর্ব ১ হাজার ২০০ সাল থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনেও ‘উৎসর্গের’ এমন রীতির প্রচলন দেখা গিয়েছে, বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।

মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির আশায় পশু বা মূল্যবান বস্তু উৎসর্গের প্রাগৈতিহাসিক রীতি পরবর্তীকালের সমান উৎসাহ নিয়ে মেনে চলা হয়েছে।

স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের তারতেসসে সাম্প্রতিক এক প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে মানব সমাজে ‘উৎসর্গের’ ধারাবাহিকতার উদাহরণ মেলে।

২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পাইস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—তারতেসসের অধিবাসীরা বহু বছর ধরে তাদের সবচেয়ে দামি পশুগুলো ‘উৎসর্গ’ করে এসেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি অভয়ারণ্যে ৫২টি পশুর হাড়গোড় পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে ৪১টি ছিল ঘোড়া। বাকিগুলো গাভী-ষাঁড়, কুকুর ও শুকর।

এই আবিষ্কারের মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপের আদি সভ্যতার রূপ কেমন ছিল তা জানার সুযোগ হয়েছে বলেও প্রত্নতাত্ত্বিকরা মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৪ সালে সেই এলাকার গুয়াদিয়ানা নদীর তীরে একটি অভয়ারণ্যের ২০ ফুট গভীরে ২ তলা বাড়ি পাওয়া গেছে। সেখানে খননের পর যা পাওয়া গেছে সেগুলো এখন থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বছর পুরোনো।

Casas del Turuñuelo – Construyendo Tarteso 3.0

বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি-প্রত্নতত্ত্ববিদ সিলভিয়া আলবিহুরি সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, প্রত্ননিদর্শনগুলো দেখে মনে হচ্ছে, পশুগুলোকে একই সময়ে ‘উৎসর্গ’ করা হয়েছে।

খননকাজে সিলভিয়ার সহকর্মী ও ভ্যালেনসিয়ান ইনস্টিটিউট অব করজারভেশন-এর গবেষক মারিয়া পিলার ইবোররা বলেন, ‘এমনটিও মনে হচ্ছে যে, পশুগুলোকে শুধু একই সময় নয় বরং একই সঙ্গে উৎসর্গ করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে জানানো হয়, উৎসর্গ করা পশুগুলো পুরুষ ও প্রাপ্তবয়স্ক ছিল।

গবেষকরা এক সঙ্গে এত সংখ্যক পশু হত্যাকে ‘গণহারে উৎসর্গ’ বলে অভিহিত করছেন।

এমন গণহারে উৎসর্গের নজির ইউরোপেই আরও আছে।

২০১৩ সালের ১৫ মে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—প্রাচীন রাশিয়ায় কিশোররা বীর-যোদ্ধা হাওয়ার আশায় নিজেদের গৃহপালিত পশু উৎসর্গ করতো।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রাশিয়ার ভলগা অঞ্চলের ক্রাসনোসামারক্সকোয়িতে ব্রোঞ্জ যুগের প্রত্নতত্ত্বিকস্থানে একসঙ্গে অন্তত ৫১টি কুকুর ও ৭টি নেকড়ের হাড়গোড় পাওয়া গেছে।

কোনো এক শীতে প্রাণীগুলোকে পোড়ানোর পর কুড়াল দিয়ে টুকরো করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কসাইয়ের কাজ খুব নিখুঁত ছিল। কুকুরগুলোকে ৩ টুকরো করা হয়েছে। মাথার খুলি জ্যামিতিকভাবে প্রায় এক ইঞ্চি করে ভাঙা হয়েছে।

নিউইয়র্কের হার্টভিক কলেজের শিক্ষক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ডেভিড অ্যান্টনি গবেষণা সাময়িকীটিকে বলেন, ‘এটি খুবই বিস্ময়কর ঘটনা।’

তার মতে, প্রাগৈতিহাসিক ইউরোপে কসাইদের এমন নিখুঁত কাজ অন্যান্য কুকুর-পালিত অঞ্চল থেকে পুরোপুরি আলাদা।

গবেষকরা বলছেন, অনেক ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কুকুর ‘উৎসর্গ’ করে দিত।

প্রতিবেদন অনুসারে—সামরিক মনস্তত্ত্ববিদদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, সে যুগে বেসামরিক ব্যক্তিদের পক্ষে যোদ্ধা হওয়া খুব কঠিন ছিল। অর্থাৎ, মানুষ হয়ে মানুষ হত্যার প্রশিক্ষণ নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হতো না।

তাই প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে কিশোররা তাদের বিশ্বস্ত প্রিয় সঙ্গী কুকুরকে হত্যা করতো।

কিশোরদের বাড়ি-পরিবার ছাড়তে হতো। গায়ে কালো রং মাখতে হতো এবং তাদের প্রিয় কুকুরের চামড়া পোশাক হিসেবে ব্যবহার করতে হতো।

এরপর তারা অন্যান্য যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিত।

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া মেল গিবসনের ‘অ্যাপোক্যালিপটো’ যারা দেখেছেন তারা জানেন, পশ্চিম গোলার্ধে স্প্যানিশ উপনিবেশ স্থাপনের আগে সেই অঞ্চলটির জীবনাচার, সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাস কেমন ছিল।

অথবা, দক্ষিণ আমেরিকায় টিনটিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের কল্পচিত্রেও প্রধান দেবতার সন্তুষ্টির জন্য আদিবাসী মায়া ইন্ডিয়ানদের ‘উৎসর্গের’ বর্ণনা পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের ১২ জুন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—মায়া জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ‘উৎসর্গকে’ নিষ্ঠুরতা হিসেবে দেখতো না। তারা একে ঐশ্বরিক শক্তির সঙ্গে পারস্পরিক লেনদেন হিসেবে দেখতো।

এতে আরও বলা হয়, মায়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশ্বাস—তারা একটি জীবনের বিনিময়ে প্রতিদিন ‘সূর্য উঠা’ নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি, ‘উৎসর্গের’ মাধ্যমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও আশানুরূপ ফসল উৎপাদনও কামনা করতো।

ব্রিটানিকা বলছে—অতিপ্রাকৃতিক শক্তির চর্চা, উর্বরতা রক্ষা ও মহাজাগতিক নিয়ম রক্ষার জন্য মায়া সংস্কৃতিতে ‘উৎসর্গ’ করার রীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

বিশ্বকোষটি জানায়, আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বছর আগে মায়া জাতিগোষ্ঠী গ্রামে বসবাস ও কৃষিকাজে মনোনিবেশ করে।

২০২৪ সালের ২৮ জুলাই সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—হাজার হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনে জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ‘উৎসর্গ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।

উত্তরপশ্চিম চীনের গানসু প্রদেশে ৪ হাজার ২০০ বছর থেকে ৩ হাজার ৬০০ বছর পুরোনো শিজিয়া সংস্কৃতিতে এর নিদর্শন পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়।

আরও জানানো হয়—বিজ্ঞানীরা তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, প্রাচীন চীনের জাতিগোষ্ঠীগুলো নিজেদের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে ‘উৎসর্গ’ রীতি কঠোরভাবে মেনে চলতো।

সেসময় সেই সমাজে বিজয়ীরা উচ্চ-মর্যাদা ভোগ করতো এবং পরাজিতদের নির্যাতন-নিপীড়নের ভেতর দিয়ে মাথা নিচু করে চলতে হতো।

ব্রিটানিকা বলছে, চীনের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ‘উৎসর্গ’ রীতিতে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পরবর্তীতে, বৌদ্ধধর্ম ও তাওবাদের মিশ্রণে চীনে ‘উৎসর্গ’ প্রচলনে বৈচিত্র্য আসে।

২০২৪ সালের ২৮ জুন ভারতবিদ্যা বিশারদ ও পুরাণ বিশেষজ্ঞ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পডকাস্টে জানান—আজ থেকে সাড়ে ৩ হাজার থেকে আড়াই হাজার বছর আগে ভারতে বৈদিক যুগে নানান ধরনের যাগ-যজ্ঞের মাধ্যমে ‘উৎসর্গ’ করা হতো।

সে যুগে মহাশক্তির সন্তুষ্টির আশায় উৎসর্গ করা বস্তু আগুনে ফেলে দেওয়া হতো।

পরবর্তীতে, সেই সব বিশাল যাগ-যজ্ঞ সহজ হয়ে ‘পূজা’র রূপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পূজায় নৈবেদ্য নিবেদনের মাধ্যমে ‘উৎসর্গ’ প্রথা ভক্তের ঘরে প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও জানান, প্রাচীনকালে যাগ-যজ্ঞের বিশাল বহর ছিল। পরিবর্তিত সমাজে তা অনুসরণ করতে অসুবিধা হওয়ায় পূজা যাগ-যজ্ঞের বিকল্প নয়, বরং সম্পূরক হয়ে উঠে।

পূজায় ‘উৎসর্গের’ উপকরণ হিসেবে ফুল, ফল ও পাতা গুরুত্ব পায়।

ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে—ভারতে বৌদ্ধধর্ম প্রসার লাভ করলে ‘অহিংসা’র বাণীও চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় প্রাচীন হিন্দুরীতিতেও কিছু পরিবর্তন আসে।

বৌদ্ধধর্মে ‘আত্ম-উৎসর্গ’ বা ‘নিষ্ঠা’ বা ‘আত্ম নিয়ন্ত্রণের’ ওপর বেশি গুরুত্ব থাকায় সুগন্ধির জন্য ধূপ পোড়ানোকেও ‘উৎসর্গের’ মর্যাদা দেওয়া হয়।

প্রধান একেশ্বরবাদী ধর্মের মধ্যে আছে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম। মূলত ঐশ্বরিক শক্তির কাছে সমর্পণ ও মানসিক শান্তির আশায় ‘উৎসর্গ’ রীতি এই ধর্মগুলোয় নানা আঙ্গিকে উপস্থিত।

ঐতিহাসিকরা বলছেন, খ্রিষ্টপূর্ব ৭০ শতকে দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংসের পর ইহুদিদের ধর্মীয় আচার-আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এর আগে, ইহুদি ধর্মাচরণে ‘উৎসর্গ’ কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিল।

হিব্রু ভাষায় ‘কোরবান’ শব্দের অর্থ ‘কাছে আসা’। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পক্ষে সৃষ্টিকর্তার ‘নৈকট্য লাভ’ করাকে বোঝায়।

খ্রিষ্টান ধর্মে যিশুর আত্মত্যাগকে প্রকৃত ‘উৎসর্গ’ হিসেবে দেখা হয়।

ব্রিটানিকার তথ্য আরও বলছে—খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন মতবাদে ‘উৎসর্গ’ করার প্রথা ভিন্ন রকম।

ইসলামে পবিত্র হজের শেষ দিনে ঈদুল আযহা বা ‘ত্যাগের উৎসব’ উদযাপন করা হয়।

এই ধর্মে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য হালাল পশু কুরবানি দেওয়াকে ‘ওয়াজিব’ করা হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, প্রাচীন মিশরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকা, প্রাচীন গ্রিস ও জাপান এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানবসভ্যতার বিকাশ পাওয়া অঞ্চলগুলোয় ‘উৎসর্গের’ রীতি ছিল। প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকে চলে আসা সেই রীতি মানব সমাজে আজো গভীরভাবে বিদ্যমান।

Related Articles

Latest Posts