বিশ্বকাপ ফুটবল এক অদ্ভুত মঞ্চ। এখানে একদিকে যেমন থাকে ট্রফি হারানোর তীব্র হাহাকার, অন্য দিকে গড়া হয় মহাকাব্যের মতো সব রেকর্ড। ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের গল্পটাও ঠিক তেমনই এক মিশ্র অনুভূতির।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফ্রান্সকে। দল হারলেও ফুটবল বিশ্ব দেখল এক নতুন ইতিহাস। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফুটবল মহাযজ্ঞে তার গোল সংখ্যা এখন ২২।
এই রেকর্ডের পথে ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসিকে (২১ গোল)। স্পেনের বিপক্ষে রোববারের ফাইনালে মেসি অবশ্য মাঠে নামবেন। তবে এটাই হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, যেখানে এমবাপের সামনে পড়ে আছে আরও অন্তত একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ।
চলতি বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে থেকে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলেন এমবাপে। এই তালিকায় তার ঠিক পেছনেই আছেন মেসি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৪ গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ৮ গোল করা এমবাপের এই ২২ গোলের কীর্তি গড়তে লেগেছে মাত্র ২২টি ম্যাচ।
রেকর্ড ভাঙার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এমবাপের কণ্ঠে ঝরে পড়ল এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। তিনি বলেন, ‘মেসি ফাইনালে গোল করবেন, এটা নিশ্চিত। আমি কেবল আমার দলকে জেতাতে চেয়েছিলাম। বিশ্বকাপে যখন আপনি প্রচুর গোল করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন।’
খেলার আসল সৌন্দর্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অতৃপ্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চেয়ে আমার কাছে অনেক বেশি আনন্দের হতো যদি আমি রোববারের ফাইনাল ম্যাচটা খেলতে পারতাম। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখা থাকাটা দারুণ ব্যাপার, তবে এই মুহূর্তে আমার মাথায় সেই আনন্দ কাজ করছে না।’

