২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলেই আছেন বিশ্বের সেরা সব ফুটবলার। মাঠের রণকৌশল, ট্যাকটিক্স আর গোলের হিসাব তো থাকবেই, কিন্তু মাঠের বাইরে কেমন এই তারকারা?
কেউ দাবা খেলায় সেরা, কেউ আবার কাঠমিস্ত্রির ছেলে। কারো নাম রাখা হয়েছে পপ তারকার নামে, কারো আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।
ফাইনালে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশে থাকা ২২ ফুটবলারের এমনই কিছু মজার তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খেলাধুলা বিভাগ দ্য অ্যাথলেটিক।
আর্জেন্টিনা দলের ফরোয়ার্ড ও অধিনায়ক মেসির নাম জানে না এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। কিন্তু মেসির নামে লিওনেল কীভাবে হলো সেটা হয়তো অনেকেই জানেন না।
১৯৮৭ সালে মেসির যখন জন্মগ্রহণ করেন, সে সময় মার্কিন গায়ক লিওনেল রিচি খুব জনপ্রিয়। মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে তার ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’ গানটি পুরো বিশ্বে আলোচিত হয়।
মেসির মা তার প্রিয় এই গায়কের নাম অনুসারে ছেলের নাম রাখেন ‘লিওনেল’।
মেসিকে নিয়ে আরেকটা মজার তথ্য হলো, বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির প্রথম চুক্তি লেখা হয় একটি কাগজের ন্যাপকিনে।
২০২৪ সালে সেটি নিলামে প্রায় ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।
আর্জেন্টিনায় সবাই তাকে ‘দিবু’ নামে ডাকে। ছোটবেলায় তার চেহারা নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘মি ফামিলিয়া এস উন দিবুহো’ এর প্রধান চরিত্রের সঙ্গে মিল থাকায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ডাক নাম দেওয়া হয় ‘দিবু’।
ছোটবেলায় বার্সেলোনা একাডেমির আর্জেন্টাইন শাখায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে স্পেনে লা মাসিয়ায় অনুশীলনের সুযোগ পান। সে সময় জীবনের প্রথম বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এই ফুটবলার।
রোমেরোকে মাঠে যতোটা আগ্রাসী দেখা যায়, ব্যক্তিজীবনে ঠিক তার উল্টো চেহারা। খুবই আবেগপ্রবণ রোমেরো সবার কাছে ‘কুতি’ নামে পরিচিত।
তিনি নিজেই জানান, কাঁদতে, ভালোবাসা প্রকাশ করতে কিংবা যেকোনো অনুভূতি জানাতে সংকোচ হয় না তার।
লিসান্দ্রোর জীবনসঙ্গীর নাম মুরিয়েল লোপেজ। একই শহরে বড় হওয়া দুজনের। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে সম্পর্কে জড়ান তারা।
লিসান্দ্রো বলেন, ‘ও আমাকে প্রকৃত মানুষ হতে শিখিয়েছে।’
ফুটবলের পাশাপাশি দারুণ আঁকতেও পারেন তিনি। বিশেষ করে জাপানি অ্যানিমে চরিত্র আঁকায় তার আগ্রহ অনেক। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ড্রাগন বল সিরিজের চরিত্রগুলো আঁকার ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
প্রতিটি ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা মিষ্টি বা ক্যান্ডি খান। এটি রদ্রিগো দে পলের প্রয়াত দাদা ওসভালদোর স্মরণে চালু হওয়া একটি রীতি। বিশ্বকাপের জন্য দলটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০০ কেজি ক্যান্ডি নিয়ে গেছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তাকে রিভার প্লেট দলে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বোকা জুনিয়র্সের অন্ধ ভক্ত পারেদেস রিভার প্লেটের কর্মকর্তাদের দেখে ভয়ে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে কেঁদেছিলেন। এর ঠিক ছয় মাস পর বোকা জুনিয়র্স তাকে দলে নেয়।
উরুগুয়ের কিংবদন্তি ফুটবলার এনজো ফ্রান্সেসকোলির নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছে ‘এনজো’। এনজোর বাবা ফ্রান্সেসকোলির এতটাই বড় ভক্ত ছিলেন যে ছেলের নামই রেখে দেন তার নামে।
তার বড় ভাইয়ের নাম কেভিন মাক আলিস্তার। বিখ্যাত সিনেমা ‘হোম অ্যালোন’ এর কেভিন চরিত্রের নাম অনুসারেই এই নাম রাখা হয়েছিল। বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত কেভিন নিজেই তা জানতেন না।
শৈশবে খুব দ্রুত দৌড়ানোর কারণে তার ডাকনাম হয়ে যায় ‘লা আরানিয়া’ (মাকড়সা)। এখনও গোল করার পর তিনি অনেক সময় স্পাইডার-ম্যানের ভঙ্গিতে উদযাপন করেন।
ছোটবেলায় মেসির হাত ধরে গোসল করার ছবি ইতোমধ্যে বিখ্যাত হয়ে গেছে। তবে অনেকেই জানেন না যে, ইয়ামাল রান্নাও করতে পারেন। এই মুহূর্তে তিনি কেবল চিকেন ফ্রাই আর চিপস বানাতে পারেন।
ইউরো কাপ চলার সময় হাইস্কুলের পড়া শেষ করে ইয়ামাল রান্নার ওপর পড়াশোনা করেন।
সিমনের খুব দাবা খেলার নেশা। দলের সতীর্থদের সঙ্গে সুযোগ পেলেই দাবা খেলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সিমন দাবি করেছিলেন, তিনিই দলের সেরা দাবাড়ু। যদিও দলের আরেক মিডফিল্ডার দানি ওলমো এই দাবি মানতে নারাজ।
দাদার সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই গভীর। এই টুর্নামেন্টে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পোরো প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করার পর ভিডিও কলে তার দাদা মজা করে বলেছিলেন, ‘গোলটা আসলে আমিই করিয়ে দিয়েছি।’
কাঠমিস্ত্রির পরিবারের সন্তান। স্কুলজীবনের শেষ বর্ষে নিজ হাতে একটি কাঠের বসার টুল বানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘ফুটবল যদি কোনোদিন ভালো না চলে, কাঠের কাজ তো জানাই আছে।’
😍 ¿Puede molar más Pedro Porro hablando con su abuelo de su primer gol con la @SEFutbol?
👶🏼 ¿Y la dedicatoria a su pequeño qué?#VamosEspaña | #CopaMundialFIFA pic.twitter.com/KO6bTSF1sG
— Selección Española Masculina de Fútbol (@SEFutbol) July 5, 2026
লাপোর্তের জন্ম ফ্রান্সে। ২০১১ ও ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছিলেন ফ্রান্সের হয়ে। তবে অল্প বয়সে অ্যাথলেটিক বিলবাও ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তিনি স্পেনের নাগরিকত্ব ও জাতীয় দল বেছে নেন।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। এক সাক্ষাৎকারে প্রতিজ্ঞা করেছেন, স্পেন যদি বিশ্বকাপ জেতে, তবে তিনি তার শরীরে কোচের মুখের ছবি ট্যাটু করবেন। তবে শরীরের ঠিক কোথায় করবেন, তা তিনি গোপন রেখেছেন।
দলের একমাত্র খেলোয়াড়, যার কোনো প্রকাশ্য ইনস্টাগ্রাম, এক্স বা টিকটক অ্যাকাউন্ট নেই। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জেতার পরও সামাজিক মাধ্যমে কোনো ছবি পোস্ট করেননি।
ফাবিয়ান স্পেনের যে শহরে বড় হয়েছেন, সেখানে একটি অদ্ভুত নিয়ম আছে। তিনি যখনই কোনো বড় ট্রফি জেতেন, শহরবাসী উপহার হিসেবে তার ওজনের সমান টমেটো উপহার দেয়। সাধারণত এর পরিমাণ প্রায় ৮০ কেজি।
১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনা ছেড়ে ক্রোয়েশিয়ার দিনামো জাগরেবে যোগ দেন। সে কারণেই তিনি সাবলীলভাবে ক্রোয়েশিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারেন। এছাড়া স্প্যানিশ, কাতালান, ইংরেজি এবং কিছুটা জার্মানও জানেন।
২০২৩ সালে এক লা লিগা ম্যাচের পর রিয়াল মাদ্রিদের ফেদেরিকো ভালভার্দের ঘুষির শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। পরে বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে সেই ভালভার্দের দলকেই বিদায় করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়ার সময় একইসঙ্গে রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে পেশাদার ফুটবল খেলেছেন। সে সময় সাধারণ ছাত্রদের মতোই দুই বন্ধুর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাট শেয়ার করে থাকতেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। পড়াশোনা ও ফুটবল—দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে গেছেন।

