তানজিদের ফিফটিতে নাটকীয় জয়ে জিম্বাবুয়েকে সিরিজ হারাল বাংলাদেশ

ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার বুলাওয়েওতে এই জয়ের মাধ্যমে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে তিন ম্যাচের সিরিজটি নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।

১৪৪ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার সাইফ হাসানের বিদায়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ ও পারভেজ হোসেন ইমন দেখেশুনে খেলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন। এই জুটি ভাঙে ২২ বলে ২৪ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলে ইমনের বিদায়ের মাধ্যমে।

এরপর রান তাড়ার নিয়ন্ত্রণ নেন বাঁহাতি তানজিদ। তিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি। এর ফাঁকে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের সাথে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। সেখানে হৃদয়ের অবদান ছিল ১৯ বলে ২৪ রান।

বাংলাদেশের সফল রান তাড়ার মূল কারিগর তানজিদ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন। তিনি ৫৮ বলে চারটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারিতে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

তবে খুব সহজেই বাংলাদেশ জিততে চলেছে বলে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা চরম নাটকীয়তায় রূপ নেয়। শেষ চার ওভারে মাত্র ২২ রান দরকার হলেও ১৬তম ওভারে হৃদয়ের বিদায়ের পর আরও তিনটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। এটি জিম্বাবুয়ের মনে কিছুটা আশা জাগলেও তা পূর্ণতা পায়নি।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫ রান, যা নাটকীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রথম তিন বলে সফরকারীরা দুই উইকেট হারানোর পর চতুর্থ বলে নিশ্চিত এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদ থেকে বেঁচে যান শেখ মেহেদী হাসান। বল করার ঠিক আগে জিম্বাবুয়ের এক ফিল্ডার তার সামনে চলে আসায় আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল ঘোষণা করেন।

এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মেহেদী। ঠিক পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

এর আগে ডিওন মেয়ার্সের ৫৩ বলে খেলা ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের ৩৮ বলে ৪৭ রানের সুবাদে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। এই দুজন ছাড়া তাদের আর কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

টাইগারদের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন খরুচে বোলিং করলেও ৩৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও আবদুল গাফফার সাকলায়েনের প্রত্যেকে একটি করে উইকেট পান।

Related Articles

Latest Posts