৩৯ দিনের মহাযজ্ঞ শেষে চূড়ান্ত লক্ষ্যপূরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও একবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে চলছে দুই দলের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার জায়গা বিশ্লেষণ। সেই বিশ্লেষণ এবং ইতিহাস বলছে, নকআউট পর্বের ম্যাচ টাইব্রেকারের দিকে যত গড়াতে থাকে, তত কমতে থাকে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা।
গত বিশ্বকাপ ফাইনালের টাইব্রেকারের স্মৃতি এখনো ফুটবল ভক্তদের মনে রোমাঞ্চ জাগায়। গঞ্জালো মন্টিয়েল জালে বল জড়াতেই ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে লিওনেল মেসি পেয়েছিলেন অমরত্বের স্বাদ। এবারও দুই ফাইনালিস্ট দলের খেলার ধরণ ও শক্তিমত্তার কথা মাথায় রাখলে টাইব্রেকারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ১২০ মিনিটেও যদি খেলার নিষ্পত্তি না হয়, তবে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কপালে একটু চিন্তার ভাঁজ পড়তেই পারে।
ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের নকআউটে টাইব্রেকারে স্পেনের জয়ের হার একেবারেই কম। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে মোট ৫ বার টাইব্রেকারে অংশ নিয়েছে স্পেন। এর মধ্যে দলটি জয় নিয়ে ফিরতে পেরেছে মাত্র ১ বার, সেটিও পাক্কা দুই দশক আগে!
টাইব্রেকারে স্পেনের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে। আয়ারল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারালেও ঠিক পরের ম্যাচেই সহ-স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-৩ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় লা রোহারা। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে পেনাল্টিতে ৫-৪ ব্যবধানে হেরেছিল স্প্যানিশরা।
টাইব্রেকারে স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসও স্বস্তি দেবে না লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে। গত দুটি বিশ্বকাপেই টাইব্রেকারে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের। এর মধ্যে ২০১৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে হার বিস্মিত করেছিল অনেককেই। আর কাতার বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতেই মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয় দলটিকে, সেবার ব্যবধান ছিল ৩-০!
পেনাল্টিতে স্পেনের দৈন্যদশার বিপরীতে ঠিক উল্টো অবস্থা আর্জেন্টিনার। টাইব্রেকারে আকাশি-সাদাদের হারাতে রীতিমতো ঘাম ছুটে গেছে প্রতিপক্ষদের, গত বিশ্বকাপই এর আদর্শ উদাহরণ।
স্পেন যেখানে পাঁচটি টাইব্রেকারে জিততে পেরেছে মাত্র একটি, আর্জেন্টিনা সেখানে সাতটি টাইব্রেকারের মধ্যে হেরেছেই মাত্র একটিতে। ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-২ ব্যবধানে পরাজয়ই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার একমাত্র টাইব্রেকারে পরাজয়।
২০২২ বিশ্বকাপের মতো ১৯৯০ বিশ্বকাপেও দুটি টাইব্রেকারে জিতেছিলো আলবিসেলেস্তেরা। কোয়ার্টার ফাইনালে যুগোস্লাভিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে হারানোর পর সেমিফাইনালেও ইতালিকে ৪-৩ ব্যবধানে হারায় ম্যারাডোনার দল। আট বছর পর ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৪-২ ব্যবধানে হারানো ম্যাচ তো এখনো আর্জেন্টিনা সমর্থকদের স্মৃতিতে রঙিন থাকার কথা।
পরিসংখ্যান তাই বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে না হলেও ১২০ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই ম্যাচের নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবে স্পেন। কারণ টাইব্রেকারে তাদের প্রতিপক্ষ কেবল এমিলিয়ানো মার্টিনেজ নয়, তাদের দুর্বল টাইব্রেকার রেকর্ডও!

