‘দৃঢ় বন্ধন ও সুস্থ প্রতিযোগিতা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে এগিয়ে নিচ্ছে’

প্রথমসারির খেলোয়াড়দের ছাড়া অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এসে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। এই কিউই স্কোয়াডের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিলেন উইল ইয়ং। সফরকারীরা ব্যাটিংয়ের প্রতিকূল কন্ডিশন এবং ধারালো পেস আক্রমণের মুখোমুখি হয়। কন্ডিশন, বাংলাদেশের বোলিং হুমকি এবং আরও নানা বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন নিউজিল্যান্ডের এই তিন নম্বর ব্যাটার।

ওয়ানডে সিরিজে নাহিদ রানা কেমন ছিল?

উইল ইয়ং: একজন দুর্দান্ত বোলার হওয়ার সব রসদ তার আছে—এই প্রচণ্ড গরমেও ধারাবাহিকভাবে ১৫০ কিমি গতিতে বল করছে। সে বাতাসে বল মুভ করাতে পারে এবং ভালো বাউন্স পায়। সুতরাং তার এমন অনেক গুণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে সে অনেক বছর ধরে একজন সত্যিই ভালো বোলার হয়ে থাকবে।

আপনি ভারতে একটি শক্তিশালী সিরিজ শেষ করে এখানে এসেছেন। বাংলাদেশের কন্ডিশন কতটা আলাদা?

ইয়ং: আমার মনে হয় পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই পুরো উপমহাদেশকে এক হিসেবে দেখে, কিন্তু আসলে তা নয়। বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ভারতের চেয়ে আলাদা। ভারতের ওই ওয়ানডে সিরিজে গড় স্কোর ছিল ৩০০-র কাছাকাছি, যেখানে এখানে তা অনেক কম—আমরা প্রথম ম্যাচে ২৪০-এর মতো রান ডিফেন্ড করেছি। ব্যাটিং কন্ডিশন এখানে কঠিন, আর আবহাওয়াও আমাদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা বেশি উত্তপ্ত।

ভারতের চেয়েও বেশি গরম?

ইয়ং: হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত নই এটা বছরের এই সময়ের কারণে নাকি আর্দ্রতার জন্য, তবে ভারতে থাকার চেয়ে এখানে অবশ্যই বেশি ঘাম হয় এবং বেশি ক্লান্তি অনুভূত হয়। বাংলাদেশের দলটা অনেক শক্তিশালী, তাদের পেস এবং স্পিন—উভয় বিভাগেই হুমকি রয়েছে।

বাংলাদেশ কি এই কন্ডিশনে বেশি ভয়ংকর নাকি পেস-বান্ধব উইকেটে?

ইয়ং: এটা বলা কঠিন কারণ আমরা নিউজিল্যান্ডে এই বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হইনি। তবে তারা স্পষ্টতই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন নিউজিল্যান্ডের কাছাকাছি হতে পারে এবং তাদের দলের ভারসাম্য বেশ ভালো। উইকেটে কিছুটা পেস থাকলে তারা সত্যিকারের হুমকি হতে পারে—আর এই সিরিজেও তারা অবশ্যই তেমনটাই ছিল।

ভারতে আপনি সেরা সুইপ শট খেলা ব্যাটারদের একজন ছিলেন। এখানে কি ভারতের তুলনায় সুইপ খেলতে বা স্পিনারদের মোকাবিলায় বেশি চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছেন?

ইয়ং: এটা স্পিনারদের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ভারতে আমরা জাদেজা এবং কুলদীপ যাদবের মুখোমুখি হয়েছিলাম, যেখানে এখানে চ্যালেঞ্জটা ভিন্ন—অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। ভিন্ন কন্ডিশনে ভিন্ন ধরনের সুইপ শটের প্রয়োজন হয়। আমাদের ব্যাটিং গ্রুপে যেমন আলোচনা হয়েছিল, আমরা শুধু রান করার জন্যই সুইপ খেলি না, বরং ফিল্ডিংয়ে পরিবর্তন আনতে বা বোলারকে লাইন-লেন্থ বদলাতে বাধ্য করার জন্যও খেলি।

ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের ক্ষেত্রে এখানকার অসমান বাউন্স কীভাবে সামলান?

ইয়ং: এটি কাজটাকে জটিল করে তোলে। বাউন্স যদি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে আপনি সোজা ব্যাটে বেশি শট খেলার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু বল টার্ন করলে সুইপ খেলার সুযোগ খুঁজতে হয়। খুব বেশি সাধারণীকরণ করা যায় না—আপনাকে শুধু নিজের কৌশলের ওপর অটল থাকতে হয়।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আপনার আগে সাফল্যের রেকর্ড আছে। ব্যক্তিগতভাবে এই সিরিজটি কতটা হতাশাজনক ছিল?

ইয়ং: যতটা অবদান রাখতে চেয়েছিলাম ততটা না পারা এবং সিরিজ হারাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি যখন রান করি, আমি চাই সেটা যেন দলের জয়ে কাজে লাগে, কিন্তু এবার তা হয়নি। তবে অনেক কিছু শেখার ছিল—তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এবং আমার জন্যও। বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতেই হয়, তারা সত্যিই ভালো খেলেছে।

চট্টগ্রামে চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল?

ইয়ং: আগে ফিল্ডিং করা কঠিন ছিল—এই সফরে আমরা খুব বেশি এমনটা করিনি এবং সেখানে প্রচণ্ড গরম ছিল। উইকেট নিচু ছিল এবং পরে কিছুটা টার্ন করছিল। মেহেদী ও তানভীর ইসলাম আমাদের ইনিংসের শুরুতে কিছুটা টার্ন পেয়েছে, যা আমরা বোলিং করার সময় দেখিনি। বাংলাদেশের বোলাররা এই কন্ডিশনে দারুণ বোলিং করেছে।

মাউন্ট মঙ্গানুইতে বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের ম্যাচে আপনি খেলেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ইয়ং: আমি দুই ইনিংসেই ফিফটি করেছিলাম (হাসি)। দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন ছয় উইকেট নিয়েছিল। কন্ডিশন যেমনটা আশা করেছিলাম তেমন ছিল না—বেশ গরম ছিল। আমাদের দলে চারজন পেসার ছিল এবং রাচিন রবীন্দ্র ছিল একমাত্র স্পিনার। হারটা হতাশাজনক ছিল, তবে এটি কন্ডিশন আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এমন ভারসাম্যপূর্ণ দল নির্বাচন করার কথা মনে করিয়ে দেয়।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়—এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

ইয়ং: এর গুরুত্ব অনেক। আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে হলেও সাউদাম্পটনে আমি স্কোয়াডে ছিলাম। আমার মনে হয় ওই বোলিং আক্রমণে টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট ও ওয়াগনার এবং ব্যাটারদের মধ্যে কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরের মতো খেলোয়াড়রা ছিল… তারা একসঙ্গে এত ক্রিকেট খেলেছে যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় ছিল সেই যাত্রার চূড়ান্ত প্রাপ্তি। এটা তাদের পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল।

বিভিন্ন ফরম্যাটে দলের ভেতরে-বাইরে যাতায়াত করা কতটা কঠিন?

ইয়ং: এটি কিছুটা জটিল হতে পারে, তবে আমি একই মানসিকতা রাখার চেষ্টা করি—নিজের শক্তিমত্তার ওপর ভরসা রাখা, খেলাটা বোঝা এবং জয়ের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করা। আমি কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছি, তাই কী আশা করা যায় তা জানা ছিল। এখানকার জন্য কোন কৌশল কাজ করবে তাও জানি। ঘরোয়া হোক বা কাউন্টি—ক্রিকেট সবসময়ই থাকে। ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিষয়টিকে আনন্দদায়ক রাখে।

রিকি পন্টিং নিউজিল্যান্ডের নিবিড় ক্রিকেট কমিউনিটি নিয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

ইয়ং: আমি সেটা শুনিনি, তবে আমাদের ছয়টি ঘরোয়া দল আছে, প্রতি দলে মাত্র ১৬ জন চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার এবং ২০ জন জাতীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। সুতরাং নিউজিল্যান্ডে পেশাদার ক্রিকেটারের সংখ্যা প্রায় ১২০ জন। আমাদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। খেলোয়াড়রা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফিরে আসে, যা পুরো সিস্টেমকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে।

২০২৭ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে দল কেমন প্রস্তুত হচ্ছে?

ইয়ং: মূল দলের অনেক খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকায় এই ধরণের সফরগুলো সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে। অল্প কিছু জায়গার জন্য যখন অনেক খেলোয়াড় লড়াই করে, তখন সেটি নির্বাচক, অধিনায়ক ও প্রধান কোচের জন্য এক ধরণের ‘মধুর সমস্যা’। সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি, তবে বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় সময়টা বেশ রোমাঞ্চকর।

 

Related Articles

Latest Posts