বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে কানাডা।
আজ রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং।
এর আগে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন অজিত সিং।
অজিত সিং বলেন, ‘ভোটিং প্রক্রিয়ায় আমাদের এই সহায়তার উদ্দেশ্য নির্বাচনের পর একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে সমর্থন করা।’
কানাডার হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে কেউ বাদ পড়বে না। এ কারণেই কানাডা এই অনুদানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করছে। পাশাপাশি আমরা আরও বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করছি, যাতে তরুণ, নারী এবং প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সব বাংলাদেশি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশী হতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটি বিশ্বের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত হওয়া সবচেয়ে বড় নির্বাচনগুলোর একটি হবে। বাংলাদেশে কী ঘটছে, তা কানাডা ও সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব যখন তাকিয়ে আছে, তখন এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
কানাডার হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন এবং পরবর্তী শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে—এ নিয়ে আমি আশাবাদী। এটি নিঃসন্দেহে দুই দেশের জনগণের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যত বয়ে আনবে। আগামী কয়েক দিনে সেই গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে নেওয়া— এখন বাংলাদেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে।’
বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, ‘আজ কানাডার এই সহায়তার গুরুত্ব শুধু আগামী কয়েক দিনের নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়। এই নির্বাচন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আগামী এক থেকে দেড় বছর ধরে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, আইনি কাঠামোর সংস্কার এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

