‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না’

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনোভাবেই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) নাম পুনর্বহাল করতে চায়।

আজ শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে—আমি এ ধরনের কথা বলতে চাই না। গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, বরং গৌরব অর্জনের বিষয়, ধারণ করার বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকেই রক্ষা করতে হবে৷ সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে৷ তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাবে না। রাজনীতির চাদরে পেশাদারিত্ব আচ্ছাদিত না হয়ে যায় যেন, এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীকে প্রত্যেক সদস্যকে সচেতন থাকা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়, এমন কিছু বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও না ও ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের পক্ষের দল৷ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী থাকে৷ সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিবসটিকে শহীদ সেনা দিবস অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস বা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা আছে।’

‘সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে আমি মনে করি,’ যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে হয়তো অনেক প্রশ্ন উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ফ্যাসিস্ট ও তাবেদারির কবলে পড়ার পর শুধু গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাধীনতাই ভূলুণ্ঠিত হয়নি, বরং একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল।’

‘এমনকি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিতভাবে সেনা হত্যাযজ্ঞের পরও এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিনটি সেনাবাহিনীও যথাযথ গুরুত্ব সঙ্গে পালন করতে পারেনি, অথবা পালন করতে দেওয়া হয় নাই।’

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের পর পতিত পরাজিত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছিল।’

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনাবাহিনীর কিছু বিধিমালার পরিমার্জন বা সংস্কারসহ অবসর সেনা কর্মকর্তাদের এমন সুপারিশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা দায়িত্ব পেলে আপনাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি৷ এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন এর ইচ্ছা আছে।’
 

Related Articles

Latest Posts