ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসের’ প্রথম বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত কথিত ‘বোর্ড অব পিসের’ প্রথম বৈঠক আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এবং বোর্ডে থাকা চারটি দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেবেন। তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে পরিবর্তন আসতে পারে।

অ্যাক্সিওস জানায়, বৈঠকটি ওয়াশিংটনের ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে এটিকে গাজা পুনর্গঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহের একটি সম্মেলন হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের একদিন আগে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ চালু করেন। তিনি নিজেই এর সভাপতিত্ব করবেন বলে ঘোষণা দেন এবং দাবি করেন, বোর্ডটি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে কাজ করবে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকা খর্ব করতে পারে।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশ এতে যুক্ত হলেও বহু পশ্চিমা মিত্র এখনো দূরে রয়েছে।

রয়টার্স জানায়, গত বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে এই বোর্ড এবং গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে অক্টোবরে ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনার আওতায় গাজায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যাতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সম্মতি দিয়েছিল।

ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ডের দায়িত্ব ছিল গাজার অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা তদারকি করা। পরে তিনি জানান, বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলায় বোর্ডটির কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি একাধিকবার লঙ্ঘিত হয়েছে।

রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ৫৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

এছাড়া ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার ফলে গাজায় তীব্র খাদ্য ও আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে।

একাধিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিটি এসব ঘটনাকে গণহত্যার শামিল বলে মন্তব্য করেছে।

তবে ইসরায়েল দাবি করছে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষ জিম্মি হওয়ার পর আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে।

Related Articles

Latest Posts