ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ আগামী জুনের মধ্যে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
আজ শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কিয়েভে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এসব কথা বলেন জেলেনস্কি।।
তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামিতে দুই দেশকে বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুধু দুই দেশের প্রতিনিধিদল নয়, শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, ‘তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কঠিন বিষয়গুলো এখনও কঠিনই রয়ে গেছে।’
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউরোপের অন্যতম বড় জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ঐকমত্য হয়নি।’
জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার চাপের বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শেষ না হলে অভ্যন্তরীণভাবে সমস্যার মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।’
তবে ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তা কিয়েভ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দফা আলোচনায় বসেছে। তবে ভূখণ্ড প্রশ্নে কোনো সমাধান হয়নি।
মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যদিও বড় আকারের বন্দিবিনিময় হয়েছে।
যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।
এএফপি জানায়, আজ শনিবার রুশ হামলায় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইউক্রেনজুড়ে ব্ল্যাকআউট দেখা দেয়।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শুক্রবার চারশ’রও বেশি ড্রোন এবং কমপক্ষে ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা গেলেও সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
রাশিয়া অবশ্য বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মস্কোর দাবি, তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনায় ইউক্রেন জড়িত।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। মস্কো একে ন্যাটো সম্প্রসারণ ঠেকানোর ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বললেও কিয়েভ একে অবৈধ ভূমি দখলের অজুহাত বলে আসছে।

