স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুজনই দায়িত্ব পালনে অক্ষম থাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শপথ কে পড়াতে পারেন—সে বিষয়ে সংবিধানে কী বলা আছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী এমপিদের শপথ গ্রহণ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যতিক্রমধর্মী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন কারাগারে আছেন।
আইন অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ পরিচালনা করতে অক্ষম হলে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন বলে জানান আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ করাতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘এখন এটা (নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখন আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন।’
তবে দ্রুত শপথ গ্রহণের পক্ষে সরকারের অবস্থানের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য আমাদের তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না। নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব আমরা শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, তিনি আইনটি পর্যালোচনা করবেন এবং তার চূড়ান্ত মতামত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানাবেন।

