একটা সময় ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মনে হয়েছিল, গত আসরের মতো এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নাটকীয় কিছু উপহার দিবে দলটি। কিন্তু যেখানে একদিকে ছিল অঘটনের হাতছানি, অন্যদিকে এক মানুষের একক দৃঢ়তা। আর সেই মানুষটি ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। একাই জিতিয়ে দিলেন ভারতকে।
শনিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৯ রানে হারিয়েছে ভারত। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬১ রান করে তারা। জবাবে নিজেদের নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি করতে পারেনি মার্কিন দলটি।
এদিন ৪৬ রানেই ভারতের ৪ উইকেট তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ৭৭ রানে ৬ উইকেট, ম্যাচ তখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের হাতের মুঠোয়। গ্যালারিতে চাপা উত্তেজনা, ভারতীয় ডাগআউটে উৎকণ্ঠা, স্কোরবোর্ডে বিপর্যয়ের চিহ্ন। সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই একা দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার খেললেন ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের অসাধারণ ইনিংসে। তাতে শুধু দলকে উদ্ধার করেননি, ভারতকে এনে দেন এমন এক পুঁজি, যা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।
ওয়াংখেড়ের পিচে বল থামছিল, খানিকটা গ্রিপ করছিল, শট খেলা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সূর্যকুমারের ব্যাটিং ছিল বুদ্ধিদীপ্ত আর নিয়ন্ত্রিত। শেষ ১৮ বলে তিনি করেন ৪৮ রান, শেষ ওভারে একাই তোলেন ২১ রান। অফস্টাম্পের বাইরে থাকা বল টেনে লেগ সাইডে বাউন্ডারি, কবজি-চালিত সুইপ, ভারসাম্য হারিয়েও বাউন্ডারি, সব মিলিয়ে এক অনবদ্য টি-টোয়েন্টি শিল্পকর্ম।
ম্যাচের শুরুটাই ছিল প্রত্যাশার বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ছোট মাঠ, শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ, সব মিলিয়ে আলোচনায় ছিল বিশাল স্কোরের সম্ভাবনা। কিন্তু শুরুতেই ধস নামে। অভিষেক শর্মা গোল্ডেন ডাক, এরপর পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে শাডলি ভ্যান শাল্কউইক একাই তুলে নেন ঈশান কিষান, তিলক ভার্মা ও শিভাম দুবেকে। ভারত পড়ে যায় গভীর সংকটে।
মাঝের ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের বোলাররা ভারতকে চাপে রাখে শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে। মোহাম্মদ মোহসিন ও হারমিত সিং তুলে নেন বড় উইকেট। রিংকু সিং, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৭তম ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ১১৮/৭, ভারত তখনও নিরাপদ নয়।
কিন্তু এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন সূর্যকুমার। শেষদিকে বোলিং আক্রমণে সামান্য ঢিল পড়তেই তিনি সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান। শেষ ওভারে নেত্রাভালকারকে বিধ্বস্ত করে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। ভারত পায় এমন এক সংগ্রহ, যেটি পরে রক্ষা করে তারা ওয়াংখেড়ে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিম্ন সফল ডিফেন্স গড়ে তোলে।
লক্ষ্য তাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই চাপে পড়ে। মোহাম্মদ সিরাজ ও আর্শদীপ সিং আগুনে স্পেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। সিরাজ দুই বছর পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরেই উইকেট তুলে নেন, আর্শদীপ শুরু থেকেই গতি আটকে দেন। এরপর ভারুণ চক্রবর্তী ও আকসার প্যাটেল ধীরে ধীরে ম্যাচ ভারতের দিকে টেনে আনেন। শেষদিকে কিছু লড়াই হলেও, আকসারের টানা দুই বলে দুই উইকেট যুক্তরাষ্ট্রের শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দেয়।

