দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
পরবর্তীতে দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, আদালতের নির্দেশে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ইমরানকে আবারও আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তথ্যমন্ত্রী তারার জানান, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে যথোপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ২০ আগস্ট দিবাগত রাতে কয়েদিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
তবে পোস্টে ইমরান খান বা শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের নাম উল্লেখ করেননি তারার।
তিনি বলেন, ‘চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল তার বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করেছে।’
তিনি আরও জানান, ইমরানের বোন উজমা খানও ওই সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে উপস্থিত ছিলেন।
ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাতে ওই হাসপাতালের কাছে শত শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তাদের কয়েকজনের হাতে লাঠি ছিল। একপর্যায়ে হাসপাতাল অভিমুখী সড়কগুলো বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ইসলামাবাদ পুলিশের জারি করা একটি নিরাপত্তা নির্দেশনায় ওই এলাকায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮০০ সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ডন ওই নির্দেশনার একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছে।
ইমরান খান (৭৩) ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে গত বছরের শেষ দিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ।
ইমরান খানের কয়েক ডজন সমর্থক বেসরকারি হাসপাতালটির কাছে জড়ো হন।
অন্যরা হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়া গাড়িগুলোতে মুঠো মুঠো লাল ফুলের পাপড়ি ছুড়ে দেন।
ইমরানভক্ত ইউনুস কুরেশি (৬৯) জানান, পাকিস্তানের জন্য যিনি এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই ব্যক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে তিনি এখানে এসেছেন।
আরেক সমর্থক বিলাল (৫২) আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান যথাযথ চিকিৎসা পাবেন।
‘জনাব ইমরান খানের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে’, যোগ করেন বিলাল।
ইমরান খানের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বলেছিলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চলতি বছরের শুরুতে ইমরান একটি হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা নেন।
সে সময় তার পরিবার জানিয়েছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বেশির ভাগই হারিয়েছেন ইমরান।
আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চের দেওয়া আদেশে আরও বলা হয়, ইমরান সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং সপ্তাহে দুবার টেলিফোনে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
আদালত আরও জানায়, তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল গঠন করা হবে। তার বোন ও চিকিৎসক উজমা খানকেও ওই প্যানেলে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইমরান।
পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
২০২৩ সালের মে মাসে তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

