জয়ের হাসি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করলেও দুশ্চিন্তায় পড়ল ব্রাজিল দল। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষেই মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হলো তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে। ঊরুতে অস্বস্তি বোধ করায় তাকে বদলি করতে বাধ্য হলেন সেলেসাওদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
মঙ্গলবার ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রিসবেনের সানকার্প স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে পেনাল্টি থেকে তাদেরকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। ডি-বক্সে দানিলো সান্তোসকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সুটার ফাউল করলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। রাফিনিয়ার শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ সঠিক দিকে ডাইভ দিয়েও ঠেকাতে পারেননি।
স্কোরলাইন ২-২ করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি ২৯ বছর বয়সী রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, ডান পায়ের ঊরুতে অস্বস্তি বোধ করার কারণেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি গুরুতর কি না, তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
তবে আন্তর্জাতিক বিরতিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে রাফিনিয়ার এভাবে মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটি ব্রাজিলের পাশাপাশি তার ক্লাব বার্সেলোনার জন্যও শঙ্কার। বিশেষ করে, এই ফরোয়ার্ডের হ্যামস্ট্রিং চোটের পুরোনো ইতিহাস থাকায় নতুন করে তিনি চোটে পড়লে কাতালান ক্লাবটিকে বাজেভাবে ভুগতে হতে পারে। বার্সার হয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অসাধারণ ছন্দ দেখিয়েছেন রাফিনিয়া। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট ম্যাচে ১৪ গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
সবশেষ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে চোটে পড়েছিলেন রাফিনিয়া। গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে পুরোটা সময় খেললেও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল তাকে। ব্রাজিলের পরের দুটি ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি। শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে জায়গা পেলেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। সেদিন ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল আনচেলত্তির দল।
এদিন প্রথমার্ধে ভ্যান্দারসন ব্রাজিলকে লিড পাইয়ে দেওয়ার পর আলেসান্দ্রো সিরকাতি ও কনর মেটক্যাফের গোলে উল্টো এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে সমতা টানেন রাফিনিয়া। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো গিমারায়েস ফের দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর পেনাল্টি থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জাল কাঁপালে জয় নিশ্চিত হয় সেলেসাওদের।
চার দিন আগে দুই দলের আগের প্রীতি ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। সেদিন সেলেসাওদের অপ্রত্যাশিত হার এড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন রাফিনিয়া। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে তার কর্নার থেকেই হেড করে সমতা টেনেছিলেন রায়ান।

