ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৮০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে।
উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর আজমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
গত ৩০ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটির ২৮০ মিটার অংশের নির্মাণকাজ শেষ করে বলে জানান ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন।
এর মাত্র দুই মাসের মধ্যে গত ৩০ আগস্ট থেকে চরআজমপুরে বাঁধের বোল্ডারগুলো ধসে পড়তে শুরু করে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ভাঙন অব্যাহত ছিল।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ধসে পড়া অংশের নির্মাণ কাজ করেছিলেন ঠিকাদার কবিরুল ইসলাম। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরুর পর চলতি বছর ৩০ জুন ঠিকাদার আমাদের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পরও এক বছর এটির রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব ওই ঠিকাদারের।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর ঠিকাদারের সিকিউরিটি মানি আটকে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে দ্রুত মেরামত কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
গত ২৫ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, নদী রক্ষা বাঁধের দুইটি স্থানে প্রায় ৮০ মিটার অংশের বোল্ডারগুলো ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাঁধের পূর্ব পাশে ৩৫ মিটার ও মাঝে ১০ মিটার বাদ দিয়ে পশ্চিম পাশে ৪৫ মিটার অংশ রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
ভাঙনে ওই এলাকার বাসিন্দা হামিদুল মোল্লার একটি দোচালা রান্নাঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শঙ্কায় আরেক বাসিন্দা ইব্রাহিম সিকদার তার সেমিপাকা বাড়ি ও সাহা শেখ তার টিনের বাড়ি সরিয়ে নেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইব্রাহিম সিকাদারের বাড়ির সীমানাপ্রাচীরসহ বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত হামিদুল মোল্লা বলেন, ‘গত কয়েক বছরের নদীভাঙনে পূর্বপুরুষের কবরসহ প্রায় ৫০ শতাংশ জমি নদীতে চলে গেছে। বাঁধ হওয়ায় নদীর পাড়ে একটি সেমিপাকা বসতঘর, একটি সেমিপাকা রান্নাঘর ও একটি পাকা টয়লেট তৈরি করেছিলাম। এবারের ভাঙনে রান্নাঘরটি নদীতে চলে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি ভেঙে অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।’
ইব্রাহিম সিকদারের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দেওয়া ৪ শতাংশ আর ফুপু শাশুড়ির দেওয়া ৫ শতাংশ জমিতে বাড়ি তৈরি করেছিলাম। নদীভাঙনে আমাদের বাড়ির সীমানাপ্রাচীরসহ দুই শতাংশ জমি নদীতে চলে গেছে।’
টগরবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন শেখ বাঁধ নির্মাণ কাজ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণের সময় নদীর গভীরে মূল মাটির সঙ্গে যে সাপোর্টিং পাথর দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয়নি। নদীর পাড়ে বালুর বস্তা ভর্তি করে ভেকু দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলা হয়েছে। এরপর ওই বস্তার উপরে পাথর দেওয়া হয়েছে। ফলে নিচ থেকে বালির বস্তাগুলো সরে যাওয়া এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা। কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজের জায়গার অদূরে নদীতে একটি চরের কারণে পানি সরাসরি এখানে আঘাত করায় এ বিপর্যয় ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘দ্রুত ধসে যাওয়া তীর সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত করা হবে। এরই মধ্যে বালির বস্তা ফেলে নতুন ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।’
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নদী রক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় চরআজমপুরসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নদীর এই অংশে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাঁধের আরও অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’

