তিন বছর পর আবারও ইতালির ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অবশ্য জয় দিয়ে শুরু করা হলো না তার। উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ঘরের মাঠে ইতালির দর্শকদের দুয়োও শুনতে হয়েছে মানচিনির দলকে।
ইউরো ২০২০ জেতানোর পর দায়িত্ব ছাড়ার তিন বছর পর চলতি গ্রীষ্মে দ্বিতীয় দফায় ইতালির কোচ হিসেবে ফিরেছেন মানচিনি। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। কিন্তু সেই যাত্রার শুরুটা হলো হতাশার হার দিয়ে।
বেলজিয়ামের হয়ে দুই অর্ধে দুটি গোল করেন মিকা গদৎস ও দোদি লুকেবাকিও। দুই গোলের মাঝে বেশ কিছু সময় ইতালি ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার বেলজিয়ামের আক্রমণের সামনে পড়তে হয়েছে ইতালিকে। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
হার এবং দর্শকদের দুয়োর পরও মানচিনি মনে করছেন, এই ম্যাচ থেকে সামনে এগোনোর কিছু উপাদান পেয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাকে বলা হয়, ইতালির সমর্থকদের আস্থা আবার অর্জন করা যেন এভারেস্টে ওঠার মতো কঠিন কাজ। মানচিনি বলেন, ‘শেষে যখন চূড়ায় পৌঁছাবেন, তখন আরও ভালো লাগবে। এটা স্বাভাবিক। আপনি হারলে সমর্থকেরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হবেন। এটা খেলারই অংশ।’
পরের ম্যাচগুলোতে কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন ইতালি কোচ, ‘দ্বিতীয়ার্ধের ২৫ মিনিট থেকে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। তখন আমরা খুব আগ্রাসী ছিলাম, দ্বিতীয় বলগুলোও ফিরে পাচ্ছিলাম এবং একদমই কোনো সুযোগ দিইনি। আমার কাছে এটা ইতিবাচক দিক।’
তবে বল হারানোর প্রবণতা কমানো এবং আরও শান্তভাবে বল দখলে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের কম বল হারানোর চেষ্টা করতে হবে, যেমনটা প্রথমার্ধে হয়েছিল। একটু বেশি বল দখলে রাখতে হবে, শান্ত থাকতে হবে এবং যেখানে জায়গা নেই, সেখানে জোর করে কিছু করার চেষ্টা করা যাবে না।’
মার্চে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপ প্লে-অফ থেকে বিদায়ের স্মৃতি এখনো খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলছে কি না, জানতে চাইলে মানচিনি সেটি স্বীকার করেছেন।
‘নিশ্চিতভাবেই এটা আমাদের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলছে। তবে আমাদের এটা ছেড়ে দিতে হবে। আমরা অবশ্যই উন্নতি করতে পারি, ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে পারি। অতীতে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে সবসময় ভাবলে হবে না। যা হয়ে গেছে, তা আমরা আর পরিবর্তন করতে পারব না,’ বলেন তিনি।

