আশুলিয়ায় বিস্ফোরণ: আলামত জব্দেই ৬ দিন, গ্রেপ্তার নেই

সাভারের আশুলিয়ায় প্রিটি গ্রুপের পোশাক কারখানার পার্কিংয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হওয়ার ছয় দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আলামত জব্দের কাজও এখনো শেষ হয়নি।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আটজন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হন।

বিস্ফোরণের এই ঘটনায় কারখানার ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে ২২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানায় মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব। মামলায় দাহ্য পদার্থ অপরিকল্পিতভাবে পরিবহন ও মজুদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অগ্রগতি জানতে আজ শনিবার সকালে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে কারখানা থেকে কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গাড়িও জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। আরও কিছু ভিডিও ও আলামত সংগ্রহ করা হবে।

মামলায় নাম থাকা ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার ছয় দিন পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, মামলায় প্রিটি গ্রুপের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আসামি না করায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা চাই, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হোক। একই সঙ্গে মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মামলায় আসামি করা হোক।

এদিকে বিস্ফোরণের কারণ ও দায় নির্ধারণে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটিকে ১৫ কর্মদিবস এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এখনও সময় বাকি আছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্য ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষের দিকে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

Related Articles

Latest Posts