এমবাপের চোটে ম্লান জিদানের সফল অভিষেক

শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে প্রথম ম্যাচেই জয়, আর সেই জয়ে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। গোল করার পরই হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় জিদানের সফল অভিষেকের রাতটাই শেষ পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের জন্য।

উয়েফা নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে শুক্রবার ১-০ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন এমবাপে। মাইকেল ওলিসের পাস নিয়ন্ত্রণ করে বাঁ পা থেকে নিচু শটে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরজান চাকিরকে পরাস্ত করেন ফ্রান্স অধিনায়ক। তবে গোলের পর সতীর্থরা যখন তাকে ঘিরে উদ্‌যাপন করছেন, তখনই ব্যথায় মুখ কুঁচকে যেতে দেখা যায় তাকে।

চিকিৎসা নিয়ে কিছুক্ষণ মাঠে থাকার চেষ্টা করেছিলেন এমবাপে। কিন্তু মিনিটখানেক পর আবারও মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এবার বাঁ হাঁটুর বাইরের দিকে হাত দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। শেষ পর্যন্ত ৫৮ মিনিটে তাকে তুলে নেন জিদান, তার জায়গায় মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে।

ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, এমবাপের হাঁটুর টেনডনে চোট লেগেছে। চিকিৎসার জন্য তাকে মাদ্রিদে ফিরে যেতে হবে। জিদানও জানিয়েছেন, ঝুঁকি না নিতেই এমবাপেকে আর মাঠে রাখেননি তিনি, ‘এটা খুব ভালো খবর নয়। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয় তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। শট নেওয়ার সময় হাঁটুটা অতিরিক্ত প্রসারিত হয়েছিল। বিষয়টি খুব একটা আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না।’

এমবাপের চোটে স্বাভাবিকভাবেই এখন উদ্বিগ্ন রিয়াল মাদ্রিদও। মৌসুমের শুরুটা প্রত্যাশামতো না হওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা স্প্যানিশ ক্লাবটির আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা এই ফরাসি তারকা। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে আছে রিয়াল। এমন সময়ে এমবাপেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য হারালে তা দলটির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

অন্যদিকে, এমবাপের চোটের কারণে ফ্রান্সের জন্যও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আরও তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ফ্রান্সের। সোমবার ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর পরের শুক্রবার ঘরের মাঠে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ফলে অধিনায়ককে নিয়ে এখন কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না ফরাসি দল।

তবে এমবাপের চোটের ছায়ার মধ্যেও জিদানের অভিষেকটা হয়েছে সফল। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়ার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও শীর্ষ পর্যায়ের কোচিংয়ে ফিরেছেন ফ্রান্সের এই কিংবদন্তি। গত জুলাইয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।

দায়িত্ব নিয়েই প্রথম ম্যাচে তুরস্কের কঠিন পরিবেশে জয় পাওয়ায় সন্তুষ্ট জিদান। মাত্র সাড়ে তিনটি অনুশীলন সেশন হাতে পেয়েও দলের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক দেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘এটা সত্যিই আবেগঘন একটি রাত ছিল, তবে কঠিন পরিবেশে আমাদের অভিষেকটা সফল হয়েছে। আমার মনে হয় আমরা বেশ ভালো খেলেছি। মাত্র সাড়ে তিনটি অনুশীলন সেশন পেয়েও বেশ কিছু দারুণ বিষয় দেখেছি। এটা বেশ উৎসাহজনক।’

জিদানের প্রথম একাদশে বিশ্বকাপে নিয়মিত খেলা বেশির ভাগ ফুটবলারই ছিলেন। তবে বাঁ প্রান্তে বোর্নমাউথের আদ্রিয়েন ত্রুফেরকে খেলিয়েছেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির রায়ান শেরকিও ছিলেন শুরুর একাদশে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ছিল এমবাপেকে আক্রমণের মাঝখান থেকে সরিয়ে বাঁ প্রান্তে খেলানো। সাবেক কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে বিশ্বকাপে মূলত মাঝখান দিয়ে খেলেছিলেন এমবাপে, যেখানে ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি।

তুরস্কের বিপক্ষে গোলটি ছিল ফ্রান্সের হয়ে এমবাপের ৬৭তম। এর মধ্য দিয়ে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। কিন্তু সেই গোলের পরই চোটে মাঠ ছাড়তে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জিদানের প্রত্যাবর্তনের গল্পের কেন্দ্রে চলে এসেছে এমবাপের হাঁটু।

Related Articles

Latest Posts