দুর্গাপূজার মৌসুমেও নতুন ঢাক বিক্রির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বরিশাল নগরীর বাদ্যযন্ত্রের কারিগর বাবুল দাস। একসময় পূজার আগে যেখানে ১০-১২টি নতুন ঢাক বিক্রি করতেন, সেখানে এবার পারেননি একটিও।
দুই ভাই বাবুল দাস ও মন্টু দাসের সময় কাটছে তাদের প্রায় ৬০ বছরের পারিবারিক দোকান জল তরঙ্গে পুরোনো ঢাক ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র মেরামত করে।
বাবুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অন্যান্য বছর অন্তত ৮-১০টি ঢাক তৈরি করে বিক্রি করতাম। এবার একটিও নতুন ঢাক বিক্রি করতে পারিনি। শুধু পুরোনো ১০টি ঢাক মেরামত করেছি।’
তার ভাই মন্টু দাস ঢোল তৈরি করেন। তিনি জানান, একটি ঢাকের দাম ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ঢোল ৫-৬ হাজার টাকা, খোল ৩ হাজার টাকা এবং একটি তবলা ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
এ দুই ভাই জানান, গত ২-৩ বছরে বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা অনেক কমে গেছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় আগের মতো বিভিন্ন সংগঠন থেকে অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
তাদের পরিবার ঐতিহ্যগতভাবেই তালবাদ্য তৈরি ও মেরামতের কাজ করে আসছে বরিশাল শহরে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসা ধরে রাখাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
মন্টু জানান, সাধারণত নিমকাঠ দিয়ে ঢোল তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে নিমকাঠ পাওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ায় ঢোল তৈরির কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ঘোষ বলেন, ‘আমাদের ৩৭টি সংগঠনের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণ ও বাদ্যযন্ত্রের চাহিদায়।’
‘উৎসব কমে যাওয়ায় এসব বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। ফলে বিক্রিও কমেছে,’ বলেন তিনি।
শহরের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়ায় বাদ্যযন্ত্রের কারিগর ও বিক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আবার শুরু না হলে এসব বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা বাড়বে না।’
বরিশালের তবলা শিল্পী গণেশ দাসও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আগের তুলনায় বাদ্যযন্ত্র শেখার মানুষের সংখ্যা কমছে। ফলে কেনার পরিমাণও কম।
তবে, পাশ্চাত্য সংগীতের উপযোগী বাদ্যযন্ত্র কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

