রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে ফিশন বিক্রিয়া। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর আজ রোববার ইউনিট-১-এ প্রথমবারের মতো এই বিক্রিয়া শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম পরমাণু ভেঙে দুটি ভিন্ন পরমাণুতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি তৈরি হয়। এই তাপ কাজে লাগিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন আজ বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কমিশনিং টিম আজ দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে প্রথমবারের মতো ইউনিট-১-এ ফিশন বিক্রিয়া শুরু করে। প্রতিটি প্যারামিটার নকশা অনুযায়ী কাজ করায় আমরা সফলভাবে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে পেরেছি।’

এর মধ্য দিয়ে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথম ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে প্রবেশ করল। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর সর্বনিম্ন তাপীয় ক্ষমতায় প্রাথমিক ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায় এবং ইউনিটের ভেতরে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলীরা রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রথম ক্রিটিক্যালিটিসহ এ পর্যায় শেষ হতে ৩০ থেকে ৪০ দিন লেগে যেতে পারে। এরপর পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, শুরুতে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে সেটা বাড়িয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়া শুরুর পর পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭ থেকে ৮ মাস চলতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) বি-২ পর্যায়ের কমিশনিং লাইসেন্স দেয়। এর ফলে ইউনিট-১-এ ফিশন বিক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন পাওয়া যায়।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার পর সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বি-১ পর্যায় শেষ হয়েছে। তাই ইউনিট-১-এ ফিশন বিক্রিয়া শুরু করার জন্য আমরা তাদের বি-২ পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছি।’

তিনি জানান, বি-২ পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় আরও কিছু লাইসেন্স ও অনুমোদন নিতে হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘পারমাণবিক ফিশন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানিকে উচ্চচাপের বাষ্পে পরিণত করা হয়। সেই বাষ্প জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত টারবাইন ঘোরায়, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে পৌঁছানোর পথে অর্জিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো ইউনিট-১-এ ফিশন বিক্রিয়া শুরু হওয়া।’

নিরাপত্তা ভালভ-সংক্রান্ত কারিগরি ত্রুটির কারণে এর আগে কমিশনিং কার্যক্রমে দুই মাসের বেশি দেরি হয়। রুশ বিশেষজ্ঞরা প্রকল্প এলাকায় এসে ৩০ সেপ্টেম্বর সমস্যাগুলোর সমাধান করার পর বায়েরা ফিশন বিক্রিয়ার লাইসেন্স দেয়।

রুশ প্রযুক্তিতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে নির্মিত হচ্ছে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর। এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

Related Articles

Latest Posts