পশ্চিমবঙ্গের ইংরেজি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার দাবি উঠেছে ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। গতকাল বুধবার এ দাবি জানান পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য।
কেরালার নাম পরিবর্তন করে ‘কেরালম’ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে শমীক বলেন, কয়েক দশক ধরে ওই রাজ্যের মানুষ নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এর পরই পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন বিজেপির এই নেতা। তার বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ শুধু একটি নাম নয়, এর সঙ্গে দেশভাগ, পৃথক রাজ্য গঠন এবং বাংলার হিন্দুদের জন্য আলাদা ভূখণ্ডের দাবির ইতিহাস জড়িয়ে আছে।
শমীক বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার পাশাপাশি বাংলার হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষায় পৃথক রাজ্য গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বও বলেছিল।
তার অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একসময় বিধানসভায় রাজ্যের নাম শুধু ‘বেঙ্গল’ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। বিজেপি তখন ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল বলে জানান তিনি।
শমীকের মতে, ‘বেঙ্গল’ নাম গ্রহণ করা হলে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা হবে।
রাজ্যসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও কথা বলেন শমীক। তিনি মুজাফফর আহমেদের আত্মজীবনীর উল্লেখ করে ‘বন্দে মাতরম’ ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ নিয়ে তার আপত্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
এ ছাড়া বিহারের রাজধানী পাটনার নাম বদলে ‘পাটলিপুত্র’ করার দাবিকেও সমর্থন করেন শমীক। রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার সদস্য উপেন্দ্র কুশওয়াহাও ঐতিহাসিক পরিচয়ের ভিত্তিতে এ দাবি তোলেন।
কেরালার নাম ‘কেরালম’ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বিভিন্ন দলের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এতে তেলুগু দেশম পার্টি, সিপিআইএম, বিজেপি, কেরালা কংগ্রেস, সিপিআই, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, ইউপিপিএল ও ডিএমডিকে’র সদস্যরা অংশ নেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপিও আলোচনায় বক্তব্য দেন।
পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের দাবি অবশ্য নতুন নয়। তবে রাজ্যসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতির সরাসরি এ দাবি তোলার মধ্য দিয়ে রাজ্যের নাম, দেশভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস নিয়ে পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কটি আবার সামনে এল।

