বেইজিংয়ে চীন ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বৈঠক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে বেইজিং অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেনইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির’ আলোচনায় ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ হয়েছে।

তবে কাদের সঙ্গে ট্রাম্প আলোচনা করছেন, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ইরান এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারে অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তেহরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনে যাচ্ছে বেইজিং। 

বছরের পর বছর অর্থনৈতিক দুর্দশায় থাকা ইরানবাসী পশ্চিমা বিধিনিষেধ পাশ কাটানোর বেশ কয়েকটি কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন করেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশের নাম চীন। 

দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ কূটনীতিবিদের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম শিনহুয়া। 

তবে কী কী বিষয় নিয়ে আরাঘচি ও ওয়াং আলোচনা করেছেন, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি। 

ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, আজ বুধবার সকালেই বেইজিং পৌঁছান আরাঘচি। 

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস জানায়, ‘এই সফরে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।’

শিগগির চীন সফর করবেন ট্রাম্পও। আগামী ১৪ ও ১৫ মে দুইদিনের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর পূর্বনির্ধারিত চীন সফর পিছিয়ে দেন ট্রাম্প। 

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি মুক্ত করে দেওয়ার জন্য তেহরানের ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি চীনের উদ্দেশে এই বক্তব্য দেন। 

গণমাধ্যমকে রুবিও বলেন, ‘আমি আশা করবো চীনারা (আরাঘচিকে) যা বলা উচিৎ, তা বলবে এবং সেটা হলো, (হরমুজ) প্রণালিতে তারা যেটা করছে, সেটা তাদেরকে বিশ্ববাসীর কাছে ব্রাত্য করে তুলছে।’

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়ার মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, আমরা উভয়পক্ষ একমত হয়েছি যে, অবরোধ আগের মতোই কার্যকর থাকবে, তবে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।

চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন ও স্বাক্ষর করা যায় কি না, তা দেখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

Related Articles

Latest Posts