গণঅভ্যুত্থানে থানা ভাঙচুরের মামলা: গ্রেপ্তারের ৩ সপ্তাহ পর কারাগারে আসামির মৃত্যু

৫ আগস্ট চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামি কারাগারে মারা গেছেন।

পুলিশ জানায়, মৃত দেবাশীষ চৌধুরী (৪৫) কোতোয়ালি এলাকার একটি আশ্রমের হিসাব রক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার পিকে সেন এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করতেন।

ময়নাতদন্তের পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেবাশীষ মারা যান।

তবে তার পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি পক্ষ থানা ভাঙচুরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। এরপর কারাগারে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল নিজের বাসা থেকে পুলিশ ছেলেকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান দেবাশীষের মা প্রতিভা মহাজন।

দ্য ডেইলি স্টারকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ওই রাতে আমরা ভাত খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন তিনজন লোক সাদা পোশাকে এসে আমার ছেলের নাম ধরে ডাকাডাকি করছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজন সেখানে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে তারা বলেন, আমার ছেলের নামে ওয়ারেন্ট আছে থানা ভাঙচুরের মামলায়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।’

‘থানায় গিয়ে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, মামলা কে দিয়েছে? আমার ছেলে তো বাসায় ছিল সেই সময়। কোথাও বের হয়নি। এত দিন পরে কীসের মামলা? জানতে চাইলে পুলিশ জানায় ৫ আগস্ট ২০২৪ এর সদরঘাট থানা ভাঙচুরের মামলা,’ বলেন প্রতিভা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমার স্বামী নেই। দুই ছেলের এক ছেলে ঢাকায় থাকে। দেবাশীষ আমাদের দেখাশোনা করত। সদরঘাটে আমাদের আড়াই গন্ডা জায়গা আছে। সেগুলো নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের বিরোধ। তার জের ধরেই সুকৌশলে আমার ছেলেকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করিয়েছে।’

‘আমার ছেলেটাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি কী নিয়ে বাঁচব? তার ছোট ছোট দুইটি সন্তান আছে। ছেলেটা ৩য় শ্রেণিতে পড়ে।  জায়গা-জমির শত্রুতা আমার ছেলেকে কেড়ে নিল,’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন প্রতিভা।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন ‘দেবাশীষ সাংগু ওয়ার্ডের হাজতি ছিলেন। সোমবার সকালে কথা বলতে বলতে বুকে ব্যথা নিয়ে তিনি পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।’

প্রতিভা মহাজন জানান, ‘গতকাল এক নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে বলা হয় ছেলে হার্ট অ্যাটাক করে চমেকে আছে। গিয়ে দেখি সে মৃত। আজ বিকেলের পর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি মীরসরাইয়ে চলে এসেছি।’

পরিবারের তোলা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. মাহফুজ হাসান সিদ্দিকীকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন, দেবাশীষকে থানা ভাঙচুরের মামলাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল।

Related Articles

Latest Posts