চোটে বিপর্যস্ত হলেও লড়াইয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া, আশাবাদী এলিস

চোটের ধাক্কায় প্রায় ভেঙে পড়া পেস আক্রমণ নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামছে অস্ট্রেলিয়া। দলের তিন প্রধান গতিতারকা প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্ক, এই তিনজনের কেউই নেই স্কোয়াডে। তবু বাস্তবতার মধ্যেই সম্ভাবনার গল্প দেখছেন নাথান এলিস। তার বিশ্বাস, অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিতেও অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বোলিং ইউনিট দেশকে বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে রাখতে সক্ষম।

পিঠের চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অ্যাকিলিস ও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগে ফিটনেস রেসে হেরে যান জশ হ্যাজেলউড। অন্যদিকে মিচেল স্টার্ক আগেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া খেলতে যাচ্ছে তাদের ‘তিন মহারথী’ পেসারকে ছাড়াই।

এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের দায়িত্ব এসে পড়েছে নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশুইসের ওপর। আর এই নতুন ত্রয়ীর নেতৃত্বদাতা হিসেবেই নিজেদের ওপর আস্থা রাখছেন এলিস, “গত ১৮ থেকে ২৪ মাস আমরা একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছি, যেখানে ‘বিগ থ্রি’ নিয়মিত ছিল না। টেস্ট ক্রিকেটে তাদের ওয়ার্কলোড অনেক বেশি ছিল। এই সময়টায় আমরা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করেছি। আমার মনে হয়, আমরা সত্যিই খুব ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করি।”

এই ইউনিটের সবচেয়ে বড় শক্তি বৈচিত্র্য জানিয়ে আরও বলেন,  “আমাদের প্রত্যেকের আলাদা স্কিল-সেট আছে। ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা আলাদা আলাদা ভূমিকা নিতে পারি। ‘হফ’ (হ্যাজেলউড) আর ‘কামো’ (কামিন্স) না থাকলেও দলটা শক্তিশালী। আর তাদের ছাড়া খেললেও আমি মনে করি, আমরা টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাওয়ার মতো অবস্থানে আছি।”

তবে এলিস নিজেও পুরোপুরি ম্যাচ প্রস্তুত অবস্থায় নেই। বিগ ব্যাশ লিগে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে বোলিং করার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। সে কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশড হয় ৩–০ ব্যবধানে।

সাধারণত ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ হিসেবেই ব্যবহৃত হন এলিস। তবে হ্যাজেলউড না থাকায় তার ভূমিকাও বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, “প্রতিটি ম্যাচই কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা হোয়াইট বল বোলারকে হারালে স্বাভাবিকভাবেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে। আমার চেষ্টা থাকবে যতটা সম্ভব নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ বুধবার, কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। 

Related Articles

Latest Posts