হংকংয়ে গণমাধ্যম মোগল জিমি লাই-এর ২০ বছরের কারাদণ্ড

হংকং-এর একটি আদালত দেশটির গণমাধ্যম মোগল জিমি লাই-কে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

দেশদ্রোহের দুইটি অভিযোগ দোষী সাব্যস্ত হন অধুনালুপ্ত অ্যাপল ডেইলি সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা লাই (৭৮)। 

বেইজিং আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী সংবাদ’ প্রকাশের আরও একটি অভিযোগও আনা হয়েছিল।

এই আইনের আওতায় এটাই সবচেয়ে কঠোর শাস্তির নজির। 

এর আগে একই কায়দায় আইন বিশারদ বেনি টাই-কে ২০২৪ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। 

বিচারকদের নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘লাই-এর গুরুতর ও তাৎপর্যপূর্ণ ফৌজদারি অপরাধ বিবেচনায়’ তারা তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

ইতোমধ্যে ২ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন লাই। যার ফলে, আরও ১৮ বছর কারাবরণ করতে হবে তাকে। 
২০২০ সাল থেকে কারাগারে আটক আছেন লাই। 

আদালতে উপস্থিত এএফপির সাংবাদিক জানান, ওই রায় পড়ে শোনানোর সময় বিচারকের এজলাসে একেবারেই নির্বিকার ছিলেন লাই। 

তাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান লাই। সেখানে তার স্ত্রী তেরেসা, হংকং-এর সাবেক বিশপ কার্ডিনাল জোসেফ জেন ও অ্যাপল ডেইলির সাবেক সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

লাই আপিল করবেন কী না, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তার আইনজীবী রবার্ট প্যাং। আপিলের জন্য লাই-এর হাতে ২৮ দিন সময় থাকছে। 

লাই এর ছেলে সেবাস্টিয়ান এক বিবৃতিতে বাবার কারাদণ্ডের নিন্দা জানান। 

সেবাস্টিয়ান বলেন, ‘আমার বাবাকে একতরফা কারাদণ্ড দেওয়ার এই ঘটনা আমার পরিবারে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এটা আমার বাবার জীবনের প্রতি হুমকি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ সরকার তার বাবার মুক্তির জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।

কয়েকদিন আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার বেইজিং সফর করেছেন।

যুক্তরাজ্যের জোরপূর্বক আটক ও জিম্মি বিষয়ক পার্লামেন্টারি গ্রুপ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, দুর্বল কূটনীতির কারণে তার মুক্তি নিশ্চিত করার একটি সুযোগ হাতছাড়া হলো।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লাইয়ের কারাদণ্ডকে ‘কার্যত একটি মৃত্যুদণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। 

সংস্থাটি বলেছে, ‘এমন দীর্ঘমেয়াদি সাজা একইসঙ্গে নিষ্ঠুরতা ও অন্যায়ের উদাহরণ।’

‘লাই-এর ওপর বছরের পর বছর চালানো নিপীড়ন চীনা সরকারের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ধ্বংস করা এবং যারা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা করে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টারই বহি:প্রকাশ’, বলেছেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন।

Related Articles

Latest Posts