দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও চার বছরেও শেষ হয়নি রাঙ্গামাটি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুতুকছড়ি সেতুর নির্মাণকাজ।
রাঙ্গামাটি জেলা শহরের সঙ্গে কুতুকছড়ি ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন, নানিয়ারচর উপজেলা, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা এবং খাগড়াছড়ি জেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক ও সেতু।
ফলে, বিকল্প সড়ক ও অস্থায়ী বেইলি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক প্রান্তে দুয়েকটি পিলার ও কিছু রড ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। কোথাও শ্রমিক বা নির্মাণসামগ্রীও দেখা যায়নি।
সেতুর পাশে খানাখন্দে ভরা একটি বিকল্প সড়ক ও একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথমে এক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপরও অগ্রগতি না থাকায় দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ না হলে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পাথরবোঝাই একটি ট্রাকসহ বেইলি সেতু ভেঙে পড়ার পর কুতুকছড়িতে নতুন সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২০২২ সালের জুলাইয়ে যৌথভাবে মেসার্স সর্দার এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রাঙ্গামাটি ট্রেডার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।
২০২৪ সালে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রথম দফায় এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
এরপরও অগ্রগতি না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবুও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ। ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
কুতুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা বাবুধন চাকমা ও অমর কিরণ চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় যোগাযোগের চরম সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বিকল্প সড়ক পানিতে ডুবে গেলে সমস্যা আরও বেড়ে যায় এবং অনেক সময় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক জসিম উদ্দিন বলেন, সেতু না থাকায় খানাখন্দে ভরা বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় গর্তে চাকা আটকে গিয়ে টায়ার ফেটে যায়। দ্রুত সেতু নির্মাণ হলে যাত্রী ও চালক সবারই সুবিধা হবে।
মোটরসাইকেল আরোহী অর্কিড চাকমা জানান, এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভাঙাচোরা বিকল্প সড়কে চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ হলে সবার জন্য যাতায়াত সহজ হবে।
এ বিষয়ে মেসার্স সর্দার এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রাঙ্গামাটি ট্রেডার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

