অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন সরকার লোন নিলে জনগণের কল্যাণেই নেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই টাকা চুরি হবে না।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ জনগণের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে কি না এবং এর দায় জনগণের ওপর পড়বে কি না জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নিশ্চয় জনগণের ওপর পড়বে।’
সরকারের ঋণকে খুব ভয়ংকরভাবে দেখানো ঠিক না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একটি দেশের জিডিপির কত শতাংশ সরকারি ঋণ হতে পারে, সেটার হিসাব-টিসাব আছে; পৃথিবীতে এমন দেশ আছে, যার জিডিপির তিন-চার গুণ (ঋণ নেয়)। জাপানে জিডিপির তিন-চার গুণ তার লোন। আমরা ওই জায়গায় পৌঁছাইনি। আমরা রেড জোনে চলে গেছি—তা না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংকট আসলে কী ছিল? আমাদের যে সঞ্চিত ঋণ আছে, সেটার বড় অংশ মিসইউজড হয়েছে। ঋণ সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা এই জায়গায়। আমরা এমন সব প্রকল্প নিয়েছি, নিয়ে চুরি করে ফেলেছি। ফলে একটি অংশ আসলে জনগণের কল্যাণে লাগেনি।’
জাহেদ আরও বলেন, ‘সরকারকে ঋণ আসলে করতে হয়। পৃথিবীতে ঋণ ছাড়া কোনো সরকার নাই। ব্যক্তির বাজেট আর সরকারের বাজেটের পার্থক্য আছে। ব্যক্তি আয় বুঝে ব্যয় করে, সরকার ব্যয় বুঝে আয় করে। (সরকার) আপনি ব্যয় ঠিক করেন, তারপর দেখেন কত আয় করতে পারবেন। যদি না পারেন, কম হয়—সারা পৃথিবীতেই ঘাটতি হয় এবং বাকিটা আপনি লোন নেন।’
‘জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি করে এই যে আমরা ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করছি, লোন এর পরও সরকারকে আসলে নিতে হবে। এটা যতটা ন্যূনতম রাখা যায়, সেই চেষ্টা করা…কারণ আমরা জানি, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে যদি সরকার প্রচুর লোন নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য লোন নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। আর যদি টাকা ছাপিয়ে নেওয়া হয়, সেটাও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। সব সংকটগুলো আমরা জানি, কিন্তু আমি এই কথাটা বলতে চাই, সরকার যদি লোন নেয়, লোন নেবে, সেটা জনগণের কল্যাণের জন্যই হবে। এই টাকা চুরি হবে না,’ যোগ করেন তিনি।

