‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে: শফিকুর রহমান 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আজ দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একসময় যারা মুখ লুকিয়ে ছিলেন, কথা বলতেন না, এখন তারা বাধ্য হয়ে হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু আমরা চাই তাদের মুখের কথাই যেন বুকের কথা হয়।’

আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমাদের জিততে হবে— এটা ১১ দলের দর্শন নয়। বাংলাদেশের হৃদয় জয় করে ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ নতুন সূর্য উদয় হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি। হ্যাঁ-এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবে, বাংলাদেশের মানুষ ধরে নেবে, তারা আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘হ্যাঁ-এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবে, এ দেশের মানুষ ধরে নেবে তারা আবারও পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘ভোটচোরেরা’ যেন ভোট চুরি করতে না পারে, এখন থেকে সজাগ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অনেক ভালো, কিন্তু দেশের মাথাগুলো পচা। এই মাথা দিয়ে কিচ্ছু হবে না। আমরা এই পচা মাথা ঠিক করতে এসেছি। সেজন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, যে টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে, আমরা তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে এনে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগাব। এই টাকা দিয়ে আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করব।

তিনি বলেন, মাতারবাড়ি বন্দরকে কাজে লাগিয়ে স্মার্ট মহেশখালী গড়ে তোলা হবে। 

জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে সেখানকার প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদকে মন্ত্রী করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

একইদিনে লোহাগড়া উপজেলার পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, ২৪ এর আন্দোলনের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই দেশ। তাই যারা ২৪ কে স্বীকার করে না, ২৬ এ তাদের লাল কার্ড। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।’

জামায়াত আমির আহ্বান জানান, ‘১২ ফেব্রুয়ারির প্রথম ভোট হবে গণভোটে হ্যাঁ ভোট, আর দ্বিতীয় ভোট হবে সংসদ নির্বাচনে স্ব স্ব আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট।’

একই জনসভায় এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছি, কারণ তারা আমাদের শোষণ করত, আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করত। আজ বাংলাদেশের অনেক লোক বিদেশে থাকে। কিন্তু রাওয়ালপিন্ডিতে অ্যামবেসি থাকলে তারা বিদেশে যেতে পারতো না, ভিসা পেত না।’

অলি আহমেদ বলেন, ‘আমি এবং জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছি। কিন্তু যখন দেখলাম বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শের ওপর আর দাঁড়িয়ে নেই, বেগম জিয়ার আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তখন ২০০৬ সালে বিএনপি ত্যাগ করলাম।’

এর আগে কক্সবাজারের গোলচত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, মা-বোনদের অপমান করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি বলে একটি মহল আমার পেছনে লেগেছে। কিন্তু যারা পেছনে লেগেছে, তারা পেছনেই পড়ে থাকবে, কখনো সামনে আসার সাহস পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মাস্টার্স পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করে দেওয়া হবে। সরকার তাদের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে। নারীরা ঘরে বাইরে সর্বত্র নিরাপদে থাকবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, যারা অন্যায় করেছে, তারা যদি অনুতপ্ত হয়, তবে তাদের বিষয়ে পজিটিভলি চিন্তা করা হবে।’

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

Related Articles

Latest Posts