তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক হতে হবে: শি জিনপিং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংইয়ের ফোনালাপ হয়েছে। গতকাল বুধবার তাদের মধ্যে এই ফোনালাপ হয়। এতে শি তাইওয়ানকে চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিবিসি এমনটি জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘সতর্ক’ থাকতে বলেছেন। তিনি আরও জানান, তার কাছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ‘বেশ গুরুত্ব’ রয়েছে। শি আশা করেন, উভয়পক্ষই তাদের মতপার্থক্য ঘোচানোর উপায় খুঁজে পাবে।

ট্রাম্প ফোনালাপে হওয়া আলোচনাকে ‘দারুণ’ এবং ‘দীর্ঘ ও বিস্তারিত’ বলে বর্ণনা করেন।

গত কয়েক মাসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ একাধিক পশ্চিমা নেতা চীনে সফর করেছেন। তাদের এই সফর ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার আশায়। আর এমন সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের ফোনালাপ হলো।

ট্রাম্পের নিজেরও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেছেন, এই সফরের জন্য তিনি ‘অধীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন।’

তিনি আরও জানান, বেইজিং বর্তমানে এক কোটি ২০ লাখ টনের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই কোটি টন সয়াবিন কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তিনি ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আমরা দুজনই বুঝি— সম্পর্ক এমনভাবেই ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

দুই নেতা সর্বশেষ গত নভেম্বর মাসে ফোনে কথা বলেন। তখন তারা বাণিজ্য, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ফেন্টানিল এবং তাইওয়ানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবারের ফোনালাপে তাইওয়ান ও সয়াবিন কেনার বাইরে আরও আলোচনায় আসে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, ইরানের চলমান সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস কেনার মতো বিষয়ও।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি বলেন, স্বশাসিত এই দ্বীপটি হলো ‘চীনের ভূখণ্ড’ এবং বেইজিংকে অবশ্যই ‘(তাইওয়ানের) সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে।’

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে।’

চীন বহুদিন ধরেই তাইওয়ানকে আবারো নিজেদের সঙ্গে নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের পথও বন্ধ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বেইজিংয়ের সঙ্গে, তাইওয়ানের সঙ্গে নয়। বহু দশক ধরে তারা সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও তাইওয়ানের একটি শক্তিশালী মিত্র এবং স্বশাসিত দ্বীপটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী।

গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তখন বেইজিং বলেছিল, তাইওয়ানের ‘স্বাধীনতাকে সমর্থন করার এই চেষ্টা’ তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়িয়ে একটি ‘বিপজ্জনক ও সহিংস পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।’

শি বুধবার ট্রাম্পকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেমন নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি চীনেরও নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক কল্যাণের চেতনায় যদি উভয়পক্ষ একই পথে এগোয়, তবে নিশ্চয়ই আমরা একে অপরের উদ্বেগ মোকাবিলার উপায় খুঁজে পাব।’

ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা আগে শি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন, যেখানে দুজনই চীন–রাশিয়া সম্পর্ক জোরদার হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান।

Related Articles

Latest Posts