মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান।

আজ বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর এই সতর্কবার্তা দিলো তেহরান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও তুরস্কসহ এ অঞ্চলে বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাবে তেহরান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওইসব দেশকে ইতোমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে হামলা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি ইতোমধ্যে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাগচি ইউএই পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। তবে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইরানিরা।

চলমান উত্তেজনার জেরে আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রয়েছে।

এরআগে মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়, তাহলে খুব কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।’

তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান এবং সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলেও এর সময় ও মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা বা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং কাতারে আল উদেইদ বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান।

এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২,৬০০ জনে পৌঁছেছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারপন্থি নিহতের সত্যতা যাচাই করেছে।

Related Articles

Latest Posts