ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগের দিন টুর্নামেন্টটি ঘিরে বড় কোনো স্বপ্নের ফানুস না ওড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। জাকার্তায় শুক্রবার মাঠে নামার আগে লাল-সবুজদের এই মাস্টারমাইন্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এই সফরের মূল উদ্দেশ্য আগামী নভেম্বরের ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেলেও এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল বের করে আনাটা বাংলাদেশের জন্য হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন। ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় শেষ মুহূর্তে মূল পর্বে জায়গা পায় ডুলির শিষ্যরা। কাল উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ‘মালিয়ান টাইগার্স’ খ্যাত মালয়েশিয়া, যাদের ফিফা র্যাংকিং ১৩৬—বাংলাদেশের চেয়ে যা ৪৫ ধাপ এগিয়ে। কঠিন পরীক্ষার এখানেই শেষ নয়, গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে সিঙ্গাপুর (১৪৬) ও আয়োজক ইন্দোনেশিয়াকেও (১১৮)।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে খেলার ইচ্ছে আমাদের সব সময়ই ছিল। তবে আমাদের মূল নজর কিন্তু ভবিষ্যতের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সেই টুর্নামেন্টের জন্য এটি দুর্দান্ত এক প্রস্তুতির মঞ্চ।’
মাঠে লড়াইয়ের তাড়না থাকলেও সমর্থক ও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের বাস্তবমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোচ।
তিনি বলেন, ‘মাঠে নামলে সবাই নিজের সেরাটা দিতে চায়, তবে আমাদের বাস্তবতা মেনে চলতে হবে। আমি জানি দেশের ফুটবলপ্রেমীরা ভাবছেন আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব।’
নিজের দল আর ওপরের সারির প্রতিপক্ষগুলোর মধ্যকার বিশাল ব্যবধানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডুলি যোগ করেন, ‘মালয়েশিয়া র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে প্রায় ৫০ ধাপ এগিয়ে। এটি বিশাল এক ফারাক। এরপর আছে সিঙ্গাপুর, তারাও ৩০-৩৫ ধাপ এগিয়ে, আর ইন্দোনেশিয়ার কথা তো ছেড়েই দিলাম। এই টুর্নামেন্ট থেকে মূলত নতুন কিছু শেখার সুযোগ খুঁজছি আমরা। হয়তো কিছু ভুল হবে, আশা করি তা খুব বেশি নয়, তবে সেই ভুল থেকে শিখেই আমরা পরের ম্যাচগুলোতে নামব— বিশেষ করে সাফের জন্য প্রস্তুত হব। এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে খেলার মাঠে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। আমরা জানি যে এই টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ।’
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলেও মালয়েশিয়ার পাল্লাই ভারী। দুই দলের ১০ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে— ১৯৮২ সালের নতুন দিল্লি এশিয়ান গেমসে ২-১ ব্যবধানে। দুটি প্রীতি ম্যাচ ড্র (২০১২ সালে ১-১ ও ২০১৫ সালে ০-০) হওয়া ছাড়া বাকি সাতটিতেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষবার ২০২২ সালের জুনে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে চূর্ণ হয়েছিল লাল-সবুজরা।
প্রতিপক্ষ যে মাঠে আধিপত্য বজায় রাখতে কতটা মরিয়া থাকবে, তা ভালো করেই জানেন ডুলি, ‘আমরা যেমন ভাবি, মালয়েশিয়াও ঠিক সেভাবেই ভাবছে। আমরা যখন র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা ভুটানের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলি, তখন কি হারতে চাই? মালয়েশিয়ার চিন্তাভাবনাও ঠিক একই রকম। তাদের বিরুদ্ধে ভালো ফল পাওয়া ভীষণ কঠিন হবে, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
সব মিলিয়ে জাকার্তার এই মিশনকে শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দল ঠিক কোন অবস্থানে আছে, তা মেপে নেওয়ার উপায় হিসেবে দেখছেন প্রধান কোচ, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছি তা পরখ করে দেখা। সত্যি বলতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে আমরা ঠিক কোন পর্যায়ে আছি, সে বিষয়ে আমরা নিজেরাও শতভাগ নিশ্চিত নই। মালয়েশিয়া স্পষ্টতই আমাদের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে, যা আমাদের জন্য বেশ কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ভালো একটা ফল আনতে পারলেই তা আমাদের জন্য সাফল্য। যদি ১-০ গোলে হারি কিংবা একটা ড্র-ও বের করে আনতে পারি, সেটাও হবে ফ্যান্টাস্টিক!’

