দীর্ঘ বিরতির পর আবারো সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা গতকাল সোমবার সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালিয়েছিল।

এই ঘটনার মাধ্যমে দুই পক্ষের কয়েক বছরের অলিখিত যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র এক্স হ্যান্ডলে জানান, সৌদি আরব হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে।

এদিকে, হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তারা সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।

আভা হলো ইয়েমেন সীমান্তবর্তী একটি পাহাড়ি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের রাজধানী, যেখানে অনেক সৌদি নাগরিক গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে অবকাশ যাপন করতে যান।

২০২২ সালের মার্চে সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর থেকে যে অলিখিত যুদ্ধবিরতি চলছিল, সোমবারের হামলার মাধ্যমে হুতিরা তা ভেঙে দিল। এর ফলে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে আবার বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এর আগে এপ্রিলে ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোতে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদে ইরানি ড্রোন হামলা থেমে গিয়েছিল।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য ছোট দেশগুলোর তুলনায় আয়তনে বড় হওয়ায় যুদ্ধের সময়ও সৌদি আরব তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল। 

তারা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে পূর্ব অঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল দিয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছিল।

হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বৃহত্তর কোনো সংঘাত এই রপ্তানি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তারা অতীতে বিভিন্ন সময়ে লোহিত সাগরের জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের হামলার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

গতকাল সোমবার উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুতি গোষ্ঠী সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একটি ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণে বাধা দিতেই বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উড়োজাহাজটি অবতরণে বাধা দেওয়ার কোনো চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ইয়েমেনের এক মন্ত্রী অভিযোগ করেন, হুতিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের একটি বিমান আটকে রেখেছে। তবে রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের সকল কর্মী ও ক্রু নিরাপদ আছেন। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের একটি চুক্তি ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের ফলে সেখানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়।

গত বছর জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থানে সংঘাত নতুন রূপ নিলেও ২০২২ সালের অলিখিত যুদ্ধবিরতিটি মোটামুটি বজায় ছিল। তবে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগরে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার ফলে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

Related Articles

Latest Posts