ইয়ামাল জাদুকরি, তবে এমবাপেকেই বেছে নেবেন হামজা

চলতি ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ কোনটি? এই মুহূর্তে ফর্মের মগডালে থাকা, বড় মঞ্চের পরীক্ষিত সেনানি কিলিয়ান এমবাপে? নাকি তরুণ স্প্যানিশ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল? ফুটবলপ্রেমীদের মনে যখন এই নিয়ে চলছে তুমুল তর্ক, ঠিক তখনই নিজের স্পষ্ট মত জানালেন বাংলাদেশ দলের তারকা হামজা চৌধুরী।

ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগে হামজা জানালেন, মাঠের যুদ্ধাবস্থায় শেষ মুহূর্তের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইয়ামালের চেয়ে ফরাসি অধিনায়ক এমবাপেই থাকবেন তার পছন্দের তালিকায় সবার আগে। 

ইয়ামালের মগজাস্ত্র ও মাঠের জাদু

‘বিকাশ প্রেজেন্টস দ্য ড্রিম কাপ উইথ হামজা’ নামক অনুষ্ঠানে আলাপকালে স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি ইয়ামালের ভূয়সী প্রশংসা করেন হামজা। মাঠের খেলায় ইয়ামালের পরিপক্বতা এবং ফুটবলীয় প্রজ্ঞার প্রশংসা করলেও, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর নিরিখে এমবাপের অভিজ্ঞতার দিকেই পাল্লা ভারী রেখেছেন তিনি।

ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসিয়ে হামজা বলেন, ‘মাঠের নান্দনিক ফুটবল ও জাদুর কথা ভাবলে লামিন ইয়ামাল অনন্য এক বৈশ্বিক সুপারস্টার। বয়সের চেয়ে তার খেলার পরিপক্বতা অনেক বেশি। সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে তাকেই আমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করি। কেবল গতি বা শারীরিক শক্তির ওপর ভর করে সে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে না; বরং নিজের প্রখর ফুটবলীয় বুদ্ধি খাটিয়ে খেলা নিয়ন্ত্রণ করে, নিখুঁত পাস বাড়ায় এবং সতীর্থদেরও খেলার সঙ্গে জড়িয়ে নেয়।’

ইউরো ২০২৪-এ স্পেনের শিরোপা জয়ের পেছনে ইয়ামালের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে হামজা বলেন, এই তরুণ ইতিমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি হওয়ার সব রসদই তার মাঝে বিদ্যমান।

ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে এমবাপেই ‘লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডিং’

তবে গল্পটা যখন রূপ নেয় রূপকথা থেকে নির্মম বাস্তবতায়—যেখানে মোক্ষম মুহূর্তে ম্যাচ নির্ধারণী একটিমাত্র সুযোগের ওপর ঝুলে থাকে ট্রফির ভাগ্য, সেখানে কার ওপর ভরসা করবেন হামজা? এমন প্রশ্নে কোনো দ্বিধাহীন চিত্তে ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপের পক্ষ নিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। তার মতে, এমবাপে এমন এক ফুটবলার, যিনি প্রচণ্ডতম চাপের মুখেও ভেঙে পড়েন না। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তার করা মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিকের উদাহরণ টেনে হামজা বলেন, ‘ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যদি সমতা বিরাজ করে এবং সবকিছু কেবল একটিমাত্র নিশ্চিত সুযোগের ওপর এসে দাঁড়ায়, তবে প্রতিবারই আমি কিলিয়ান এমবাপেকেই বেছে নেব।’

এমবাপের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং ও ঘাতক প্রবৃত্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে হামজা তার বক্তব্যের ইতি টানেন এভাবে—প্রতিভা আর মাঠের শৈল্পিক রূপ চোখের তৃপ্তি দেয় বটে, কিন্তু দিনশেষে অভিজ্ঞতা আর খুনে মেজাজই শিরোপা ছিনিয়ে আনে। এই কারণেই কঠিনতম মুহূর্তে এমবাপের ওপরই ভরসা রাখা যায়। যখন ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত লড়াই চলে, তখন তিনিই আসল ম্যাচের ভাগ্যবিধাতা।

 

Related Articles

Latest Posts