চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে ফেরদৌস স্টিলের জাহাজের ট্যাংকের ভেতরের হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কারণে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসিন আরাফাত খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গত বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়।
আজ শুক্রবার অধ্যাপক মো. ইয়াসিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা এর আগে দুর্ঘটনাস্থল ও জাহাজটি পরিদর্শন করে বলে জানান তিনি।
গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এমটি রাসি’ নামের একটি জাহাজ ভাঙার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান ১০ শ্রমিক। জাহাজটি আগে এলএনজি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।
জাহাজের ৪টি ট্যাংকের একটির ভেতরে কাজ করার সময় শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিনই ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গত বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক শ্রমিক।
অধ্যাপক ইয়াসিন ডেইলি স্টারকে জানান, বিশেষজ্ঞ দলটি ট্যাংকের ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছে এবং বিষাক্ত এই গ্যাসের অতিরিক্ত সংস্পর্শে আসার কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘তীব্র মাত্রার হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সংস্পর্শে আসার পর শ্রমিকদের মৃত্যু হতে পারে। তবে আমাদের তদন্ত এখনো চলছে।’
জাহাজের তিন নম্বর ট্যাংকে জমে থাকা দূষিত পানি অপসারণের কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পানিতে দ্রবীভূত থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস পানি সরানোর সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে আসে এবং শ্রমিকেরা এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞ দল ট্যাংক থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে পানিতে এই গ্যাস কীভাবে তৈরি বা জমা হয়েছিল এবং এর ঘনত্ব কত ছিল।
দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জাহাজটি পরিদর্শন করে। তারাও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস শনাক্ত করে। জাহাজের আক্রান্ত অংশে তখন গ্যাসের ঘনমাত্রা পাওয়া গিয়েছিল ১০ দশমিক ৮ পিপিএম।
তবে কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিকরা যখন গ্যাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে গ্যাসের তীব্রতা কত ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ দলটি কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতিও পরীক্ষা করেছিল, তবে পরিদর্শনের সময় এ গ্যাসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত ১১ সদস্যের একটি কমিটিসহ মোট ৩টি পৃথক কমিটি এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে।
১১ সদস্যের কমিটির অন্যতম সদস্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন ডেইলি স্টারকে জানান, তারা মাঠপর্যায়ের তদন্ত ও পরিদর্শন কাজ শেষ করে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করছেন।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এএসএম শফিউল আলম তালুকদার জানান, একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা হয়েছে। অন্য কমিটিগুলো তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং শিগগির সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।

