হাসানের সাফল্যের রহস্য ‘পার্টনারশিপ বোলিং’

বোলিংয়ে নেতৃত্বটা দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন দাপুটে শুরু বাংলাদেশের জন্য কেবল ব্যক্তিগত কোনো বোলারের সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি ছিল পেসারদের সম্মিলিত আক্রমণের ফল। হাসান এক প্রান্ত থেকে উইকেটের পর উইকেট তুলে নিলেও অন্য প্রান্তে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের ধারাবাহিক চাপ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের স্বস্তি দেয়নি। আর এই সমন্বিত বোলিংকেই প্রথম দিনের সাফল্যের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন হাসান।

ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। একাই ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি পেসারও হয়েছেন তিনি। তবে নিজের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও কৃতিত্বটা একা নিতে রাজি নন হাসান। বরং দলের তিন পেসারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই সামনে এনেছেন তিনি।

সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের পেসাররা নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। হাসানের জোড়া আঘাতের পর ইবাদত ও তাসকিনও নিয়মিত চাপ ধরে রাখেন। ফলে প্রথম সেশনেই ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

হাসানের মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই চাপ তৈরির মূল চাবিকাঠিই ছিল এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে যাওয়া। একজন বোলার যখন চাপ তৈরি করেছেন, অন্য প্রান্তের বোলাররা সেটি ধরে রেখেছেন। এভাবেই ব্যাটারদের ভুল করার জায়গায় নিয়ে গেছেন তারা।

‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল কঠোর শৃঙ্খলা মেনে বোলিং করা এবং পার্টনারশিপ বোলিংয়ের মাধ্যমে চাপ তৈরি করা। সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়েছে। ইবাদত ও তাসকিন অন্য প্রান্ত থেকে খুব ভালো বোলিং করেছে। তাদের বোলিং আমাদের সেই চাপটা তৈরি করতে সাহায্য করেছে,’ বলেন হাসান।

ডারউইনের উইকেটও বাংলাদেশের পেসারদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। দিনের শুরুতে উইকেটে ছিল আর্দ্রতা, নরমভাব এবং সিম মুভমেন্ট। সেই সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের বোলাররা লাইন-লেন্থে কোনো ছাড় দেননি। একসঙ্গে দুই প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য রান করা তো কঠিন হয়েছেই, পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখাও হয়ে উঠেছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে শুধু কন্ডিশনের সুবিধা পেলেই যে এমন সাফল্য আসত না, সেটিও পরিষ্কার হাসানের কথায়। তার মতে, ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং বোলারদের অনুশীলনও এই পারফরম্যান্সের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে নামার আগে পাওয়া প্রস্তুতির সময়টাকে বাংলাদেশি পেসাররা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন।

হাসানের ভাষায়, ‘আমরা ইদানীং অনেক অনুশীলন করেছি। প্রস্তুতির দিক থেকে এটি দারুণ ছিল। আমাদের হাতে প্রস্তুতির জন্য অনেক দিন ছিল এবং বোলাররা খুব ভালো অনুশীলন করেছে। মাঠে সেটার প্রতিফলনই দেখা গেছে।’

দিন শেষে সেই পার্টনারশিপ বোলিংয়ের সুফল শুধু অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে আটকে রাখাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্যাটিংয়েও ভালো শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দিন শেষ করা শান্তর দল স্বাগতিকদের চেয়ে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে। হাতে আছে আরও ৯ উইকেট।

 

Related Articles

Latest Posts