যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম

যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নাম।

আজ সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটেনের রাজা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বৈঠকে তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর রাজার সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করেন বার্নাম।

বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অ্যান্ডি বার্নাম রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।’

যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের নেতা বা সরকার গঠনে সক্ষম ব্যক্তিকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়ে  রাজা সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন বলে জানায় বার্তাসংস্থা এএফপি।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে কয়েক মাস ধরেই সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিলেন অ্যান্ডি বার্নাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই মেয়রকে ঘিরে জোরালো জল্পনা শুরু হয়।

ব্রিটেনের রাজনীতি নিয়ে বার্নামের ‘মোহভঙ্গ’ ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের কথাও উঠে এসেছে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নাম তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখেন ২০০৯ সালকে। ওই বছর লিভারপুলের অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে এক স্মরণসভায় গিয়ে তিনি দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন। ১৯৮৯ সালের ‘হিলসবোরো ট্র্যাজেডিতে’ নিহত ৯৭ জন মানুষের বিচার না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে সমবেত হয়েছিলেন।

তৎকালীন লেবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন বার্নাম। মানুষের এই ক্ষোভ তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরে তিনি বলেন, ‘ওই দিনই পার্লামেন্টের রাজনীতির প্রতি আমার মোহভঙ্গ হয়।’

সেই বার্নামই পরে জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেন। গত নয় বছর ধরে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে নিজের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলেন। 

তার দাবি ছিল, তিনি লন্ডনের বাইরের সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্ব দেবেন।

করোনা মহামারির সময় বরিস জনসনের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি জাতীয়ভাবে জনপ্রিয়তা পান। ম্যানচেস্টারের গণপরিবহনব্যবস্থাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে তিনি প্রশংসিত হন। স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করায় অনেকেই তাকে ‘উত্তরের রাজা’ উপাধিও দেন।

১৪ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেওয়া বার্নামের বাবা ছিলেন একজন টেলিফোন প্রকৌশলী এবং মা ছিলেন একজন রিসেপশনিস্ট। মেধার জোরে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান।

টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নিলেও দুইবারই পরাজিত হন। পরে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রথম মেয়র হিসেবে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালে আরও বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হন।

লেবার পার্টির অনেকের বিশ্বাস ছিল, ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও বামপন্থী গ্রিন পার্টির কাছে হারানো ভোট ফিরিয়ে আনতে বার্নামই দলের সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প। সেই প্রত্যাশার ধারাবাহিকতায় তিনি এখন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

Related Articles

Latest Posts