জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: বিক্ষোভের ডাক নারী শিক্ষার্থীদের, প্রীতিভোজ বয়কট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ প্রীতিভোজ বয়কট ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের বর্ধিতাংশ ও পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেছে।

আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. গাফরুল হাসান চৌধুরী আশুলিয়া থানায় এ মামলা করেন।

ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দল, মত ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে জাহাঙ্গীরনগরের সব মেয়েরা প্রীতিভোজ বয়কট করছি। খাবার নষ্ট করব না, তাই শুধু রাতের খাবার হিসেবে খাব। তবে সাজগোজ বা আনন্দ উদযাপনের কিছু হবে না। রাত ১০টায় সব মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে আসব। মেয়েদের হলগুলো থেকে ঐক্যবদ্ধ মিছিল হবে।’

‘আমরা পথে নামব আমাদের বোনের ওপর ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে। আমরা পথে নামব আমাদের বোনকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে। আমরা পথে নামব আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে,’ বলেন তিনি।

অপর সংগঠক ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনের সাবেক সভাপতি মির্জা সাকি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেসা হল থেকে মিছিল শুরু হবে। এরপর প্রত্যেকটি মেয়েদের হল থেকে শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেবেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করবেন এবং সেখান থেকে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করবেন।’

সাকি জানান, ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই প্রতিবাদ মিছিলে একাত্মতা প্রকাশ করেছে

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা অফিসের অবহেলার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল রাত ১১টার কিছু সময় পর এক নারী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হাঁটছিলেন। সেসময় অজ্ঞাতপরিচয় একজন তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই ব্যক্তি তার গলায় জালের মতো একটি বস্তু পেঁচিয়ে আল বেরুনী হলের বর্ধিত অংশের পাশের ঝোঁপে টেনে নিয়ে যান।

সেসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা চিৎকার শুনতে পেয়ে এগিয়ে যান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হলে নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালালেও অভিযুক্তকে খুঁজে পায়নি।

Related Articles

Latest Posts