কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসেন কায়কোবাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, শহীদ ল্যান্স নায়েক ওয়াহিদুজ্জামানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, যুদ্ধাহত সিপাহী এস এম জাহিদুন্নবী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বড়াইবাড়ী দিবস দেশের সীমান্ত রক্ষার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ। তাই দিনটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বড়াইবাড়ীর প্রতিরোধযুদ্ধ জাতির সাহস, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্মৃতি চর্চা ও সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোররাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে বড়াইবাড়ী গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায় ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। ওই হামলার জবাব দেয় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। যৌথ প্রতিরোধে বিএসএফের ১৬ সদস্য নিহত হন।
সেসময় শহীদ হন বিডিআরের ৩৩ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওয়াহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান ও ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের। আহত হন হাবিলদার আব্দুল গণি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আবুবক্কর সিদ্দিক, সিপাহী হাবিবুর রহমান ও সিপাহী জাহিদুন্নবী।

