মেঘনায় ট্রলারডুবি: ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

আজ শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ঘাটের আশপাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিনা (১৭) এবং দুই ছেলে সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। এর মধ্যে সামিনার মরদেহ রাত ২টা ৫৫ মিনিটে এবং সজিব ও সামিনের মরদেহ সকাল ৮টা ১০ মিনিটে বৈদ্যেরবাজারের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও একজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পর সকাল ৭টা থেকে আবারও অভিযান শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ডুবুরি দলও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

বৈদ্যেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, ট্রলারটিতে ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকায় একটি বিয়েতে অংশ নিতে স্বজনেরা কুমিল্লার হোমনা থেকে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।

 

 

Related Articles

Latest Posts