আতাউর রহমানের অবদান ভোলা যাবে না: মামুনুর রশীদ

বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে মামুনুর রশীদ একটি উজ্জ্বল নাম। বর্ষীয়ান এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সদ্য প্রয়াত নাট্যজন আতাউর রহমানের বহু বছরের সম্পর্ক ছিল। সহযাত্রী, সহকর্মী ও কাছের মানুষ হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তাকে।

আতাউর রহমানের মৃত্যু কেবল একজন নাট্যব্যক্তিত্ব হারানো নয়, বরং দীর্ঘদিনের একজন সহযোদ্ধাকে হারানো। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে আতাউর রহমানের নাট্যজীবন, অবদান ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলেছেন মামুনুর রশীদ।

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই আতাউর রহমানকে চিনতাম। পাকিস্তান আমলেই তিনি নাটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতার পর নতুন উদ্যমে নাট্যচর্চা শুরু করেন। পরে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন।’

‘৫০ বছরেরও বেশি সময় তিনি নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে মঞ্চনাটকে তার বিশাল অবদান আছে। এই অবদান কখনো ভুলবার নয়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘মঞ্চের জন্য আতাউর রহমান অসংখ্য কাজ করেছেন। নাটক লিখেছেন, নাট্যরূপ দিয়েছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন, অভিনয়ও করেছেন। শুধু নিজের দলের জন্য নয়, অন্য নাট্যদলের জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন। তার কাজ দর্শকদের প্রশংসা ও ভালোবাসা পেয়েছে।’

মামুনুর রশীদ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ‘রক্তকরবী’ নাটকের কথা। তিনি বলেন, ‘রক্তকরবী ছিল অত্যন্ত সাড়া জাগানো ও প্রশংসিত একটি নাটক। এটি তার নির্দেশিত অসাধারণ একটি মঞ্চনাটক। এছাড়া তিনি গ্যালিলিওসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। এসব কাজই তাকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখবে।’

আতাউর রহমানের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। তিনি প্রচুর পড়তেন, জানতেন অনেক কিছু। সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তিনি নাট্যদলের জন্য উজাড় করে দিয়েছেন।

তার ভাষ্য, ‘একসময় তিনি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রধান ছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি সারাজীবন নাটক নিয়েই থেকেছেন। এর বাইরে আর কিছু ভাবেননি। শিল্পের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা ছিল।’

সমসাময়িকদের হারানোর বেদনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘আমার সমসাময়িক ও কিছুটা সিনিয়র অনেকেই চলে গেছেন। এবার আতাউর রহমানও চলে গেলেন। এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এই শূন্যতা নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মঞ্চে তার অনেক কাজ দেখেছি, প্রশংসাও করেছি। এত বছরের পথচলায় কত স্মৃতি, কত কথা মনে পড়ছে। সবকিছু ছেড়ে তিনি চলে গেলেন। তার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল।’

Related Articles

Latest Posts