বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিনি উৎপাদকদের অন্যতম দেশ ভারত। আপাতত এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
স্থানীয় বাজারে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চিনি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত।
বুধবার দিনের শেষ ভাগে প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এই নির্দেশ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে।
কিছু ব্যতিক্রম বাদে সব ধরনের রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। ইতোমধ্যে আংশিক পাঠানো হয়েছে বা পাঠানোর জন্য প্রস্তুত আছে এমন চালানের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
পাশাপাশি, যেসব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক খাদ্য নিরাপত্তা চুক্তি আছে, তাদের কাছে রপ্তানিতে বাধা নেই।
৩০ সেপ্টেম্বর এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে।
আগামী অক্টোবর মাস থেকে ভারতে ক্ষেত থেকে আখ আহরণ শুরু হবে। এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী বৃষ্টি হয়নি।
ভারতে এ বছর আখের ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হবে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

যার ফলে, স্থানীয় বাজারে চিনির সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি, দামও বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই রপ্তানি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত।
ইরান যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশটি বড় আকারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল। এসব জটিলতার কারণে নয়াদিল্লির প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সরকারী তথ্য মতে, ২০২১-২২ সালের সর্বোচ্চ মাত্রা থেকে অনেকাংশে কমেছে চীনের চিনি রপ্তানির হার।
২০২১-২২ মৌসুমে নতুন রেকর্ড গড়ে ১ কোটি ১০ লাখ টন চিনি রপ্তানি করে ভারত।

২০২২-২৩ মৌসুমে তা কমে ৬৩ লাখে নেমে আসে।
২০২৩-২৪ মৌসুমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে রপ্তানির হার। সে বছর মাত্র ১ লাখ টন চিনি রপ্তানি করতে সমর্থ হয় ভারত।
পরবর্তীতে সেখান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টনে নিতে পেরেছে ভারত।

