রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠায় স্ট্রাইকার সর্দার আজমুনকে ইরানের বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তবে তাকে দলে ফেরাতে কদিন আগে অনুরোধ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদোলকরিম হোসেনজাদেহ। তা সত্ত্বেও এই নিয়ে কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ইরানের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) প্রধান মেহদি তাজ।
৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৭ গোল করা আজমুন ইরানের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বর্তমানে তুরস্কে ক্যাম্প করতে থাকা বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল থেকে কোচ আমির ঘালেনোই তাকে বাদ দিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের প্রতি আনুগত্যহীনতার দায়ে দলে ঠাঁই হয়নি এই অভিজ্ঞ তারকার।
গত সপ্তাহে ৩১ বছর বয়সী আজমুন নিজের দেশপ্রেমের সপক্ষে এক আবেগময় বিবৃতি দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘আমি যেখানেই ফুটবল খেলি না কেন, আমার পরিচয়, হৃদয় ও গর্ব সবই ইরান।’ একই সঙ্গে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।
এর প্রেক্ষিতেই গত সোমবার তাকে দলে ফেরানোর আহ্বান জানান ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেনজাদেহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘সম্ভব হলে তাকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হোক। এটি কেবল একটি খেলাধুলা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি জাতীয় ঐক্যের সপক্ষে একটি বার্তা।’
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান মেহেদি জানান, আজমুনকে দলে ডাকার ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই, ‘যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে সর্দারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি আপাতত কিছু জানি না।’
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পরপরই দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি পোস্ট করে কট্টরপন্থি সরকারি সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেন আজমুন। কারণ, বিমান হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি বৈরী পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান।
উল্লেখ্য, আজমুন বর্তমানে আরব আমিরাতেরই ক্লাব শাবাব আল আহলি দুবাই এফসিতে খেলছেন। তিনি ইউরোপিয়ান ফুটবলেও পরিচিত মুখ, খেলেছেন জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন ও ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার হয়ে।
ইরান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। আর ‘জি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে এশিয়ার দলটি।

