স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের (এসসিবি) রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে পূবালী ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।
এর আগে ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল কার্যক্রম অধিগ্রহণে আগ্রহের কথা জানিয়ে ব্যাংকটির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছিল।
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা অধিগ্রহণে আগ্রহী। ব্যাংকটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মানবসম্পদ নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন কর্মী রয়েছেন এবং যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ধরে রাখতে হবে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কিছু আপত্তি রয়েছে। তবে আমরা বিষয়টির সমাধান করে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা জানতে পেরেছি, নভেম্বরের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এমটিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে তাদেরও আলোচনা হয়েছে। তবে এটি প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তার ধারণা, বিদেশি ব্যাংকটির কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই পরিকল্পনার কথা তারা জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড একটি বিদেশি ব্যাংক। নিজেদের কৌশল অনুযায়ী তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
‘তবে আমরা আশা করি, ব্যাংকটি যদি তাদের রিটেইল কার্যক্রম বন্ধ করে, তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং এ নিয়ে কোনো অসন্তোষও তৈরি হবে না,’ যোগ করেন তিনি।
আজ সোমবার যোগাযোগ করা হলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং বিভাগের কান্ট্রি হেড বিটপী দাস চৌধুরী বলেন, ‘এসব বাজারের গুঞ্জন বা অনুমান। এ ধরনের জল্পনা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড গ্রুপ প্রতিনিয়ত তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ক্লায়েন্টদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিতে সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’
বিটোপি বলেন, ‘আমরা একটি বৈশ্বিক সুপার-কানেক্টর ব্যাংক, বাংলাদেশে ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করছি। এ দেশে ব্যাংকটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও উপস্থিতি রয়েছে এবং আমরা বাংলাদেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং এই মুহূর্তে আমাদের ব্যাংকিং সেবা ও কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
১৯০৫ সালে চট্টগ্রামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রথম শাখা চালু হয়। বর্তমানে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে ব্যাংকটির ১৮টি শাখা রয়েছে।
গত বছরের জুলাইয়ে আরেক বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসিও বাংলাদেশে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

