বিশ্বকাপে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাতারাতি পাওয়া নাম-ডাক যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে কেপ ভার্দের ভোজিনহার জন্য। গেল বিশ্বকাপের সাড়া জাগানো গোলরক্ষক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগের সেই নিরিবিলি জীবনটা পেলেই তিনি বেশি খুশি হতেন।
গত জুনে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে আলোড়ন তুলেন ভোজিনহা। ফেভারিট স্পেনের বিরুদ্ধে একের পর এক ৭টি সেভ করে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন তিনি। আর তাতেই রাতারাতি তারকা বনে যান।
ম্যাচ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় তার অনুসারীর বন্যা। খেলা শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ৫৬ হাজার থেকে লাফিয়ে ১৪ লাখে পৌঁছায়—বাড়তি বেড়ে যায় ২৫০ গুণ! এরপর ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে বর্ষসেরা পুরুষ গোলকিপারের তালিকায় নাম ওঠার পর সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখে।
‘দ্য অবজার্ভার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমার জীবনের শান্তি আর নিরিবিল ভাবটাই হারিয়ে গেছে। আগের মতো এখন আর এতটুকু ব্যক্তিস্বাধীনতা পাই না। বাইরে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই কেউ না কেউ ছবি তুলতে চায়, অটোগ্রাফ চায়। আর সবচেয়ে বিরক্তিকর হলো, আড়ালে অগোচরে ভিডিও করে রাখা। এটাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে, আর আফসোস হলো—এতে আমার করারও কিছু নেই।’
খ্যাতির যে তিক্ত দিক আছে সেটাই মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বিখ্যাত হতে চায়, সবার কাছে পরিচিত হতে চায়। কিন্তু তারা শুধু আলোর দিকটাই দেখে, অন্ধকারের খবর রাখে না। সত্যি বলতে, আজকের এই জীবন আর আগের জীবনের মধ্যে বেছে নিতে বললে, আমি নিঃসন্দেহে আগের জীবনটাকেই বেছে নেব।’
ঝামেলা শুধু তাকে নিয়েই নয়, কেপ ভার্দেতে তার মায়ের বাড়িতেও প্রতিদিন সমর্থকদের ভিড় জমে। ভোজিনহা আফসোস করে বলেন, ‘আমি তো সেখানে নেই, তাই বাবামা-কে সাহায্যও করতে পারি না। বাধ্য হয়ে তাদেরই এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে আর নিজের সীমা ঠিক করতে হচ্ছে।’
স্পেনের বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর পরই যে গোটা দুনিয়ায় তিনি ঝড় তুলে ফেলেছিলেন, সেটা নাকি শুরুতে তখন টেরই পাননি, ‘দলের খাবারের তদারকিতে থাকা একজন এসে আমাকে বলল, আমার নাকি ১০০ কোটি অনুসারী হয়ে গেছে! আমি ভাবলাম মজা করছে। কিন্তু সে বারবার একই কথা বলতে থাকল। পরে মিক্সড জোনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কাজেটিভির (ব্রাজিলিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম) এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন, বাইরে কী হচ্ছে আমি জানি কি না। তিনি তার ফোনের পর্দাটা আমার চোখের সামনে ধরতেই দেখি, সত্যি সত্যিই অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে!’

