ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময় মাত্র এক ঘণ্টা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে হলে ঢোকার ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তোলার দাবিতে আন্দোলনরত তিনটি প্ল্যাটফর্ম এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, লেট পাস নিয়ে হাউস টিউটরের আগাম অনুমতি ছাড়া ছাত্রীরা রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে হলে ঢুকতে বা বের হতে পারেন না।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হতে হলে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন।
২৪ ঘণ্টা হলে ঢোকার অধিকার দাবি করা ‘অবরোধবাসিনী’ সংগঠনের নেত্রী ইশরাত জাহান ইমু বলেন, এটা আমাদের আন্দোলনের প্রতি উপহাসের শামিল। আমরা যেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রবেশাধিকার চাচ্ছি, সেখানে তারা বাড়াল মাত্র এক ঘণ্টা।
তিনি আরও বলেন, সারাক্ষণ গেট খোলা রাখার ব্যবস্থাপনা ও এর দায়-দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বিধিনিষেধের কারণেই ক্যাম্পাসে মেয়েরা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের হেমা চাকমা জানান, তারা আশা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঢোকার সময় অন্তত রাত ১টা বা ২টা পর্যন্ত বাড়াবে।
নিরাপত্তার অজুহাত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সমস্যা যদি নিরাপত্তাই হয়, তাহলে বুয়েট, ঢাকা মেডিকেল আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কীভাবে এই সুবিধা পাচ্ছে? আর আমরা তো দিনের আলোতেই ক্যাম্পাসে মেয়েদের হয়রানি হতে দেখি, নাকি দেখি না?
‘নারী হল সংস্কার আন্দোলন’-এর নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, আমরা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আবার কথা বলব। তারা যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।
প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব ইসরাফিল রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই শহরের বর্তমান সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে তিন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে আছে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হলে প্রবেশের ওপর থাকা সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ছাত্রীদের নারী স্বজনদের হলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে অন্য হলের ছাত্রী বা অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া ও অনুমতি সাপেক্ষে রাতে থাকার ব্যবস্থা করা।

